৭৫০ কোটি টাকা ব্যয়েও মিলছে না সুফল, সামান্য বৃষ্টিতে ডুবছে খুলনা নগরী

সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে খুলনা নগরের প্রধান সড়ক ও অলিগলি।

বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। গত সাড়ে পাঁচ বছরে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেনেজ ও খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও তার কোনো সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরজমিনে দেখা গেছে, সামান্য বৃষ্টির ফলেই শহরের আবু নাসের মোড়, উল্লাস পার্ক মোড়, আহসান আহমেদ রোড, রয়েল মোড়, খানজাহান আলী সড়ক, বাস্তুহারা, বাইতিপাড়া, চানমারী, লবণচরা, টুটপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, রূপসা নতুন বাজারসহ অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। নতুন রাস্তা মোড় থেকে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল (আবু নাসের হাসপাতাল) মোড় ও মুজগুন্নি সড়কের বড় অংশেও থৈ থৈ করছে পানি।

জলাবদ্ধতার কারণে সড়কের মাঝেই বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে ইজিবাইক। কোথাও কোথাও যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে রিকশা ঠেলে নিয়ে যেতে হচ্ছে চালকদের। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ভেজা ইউনিফর্ম পরেই নোংরা পানি মাড়িয়ে যেতে হচ্ছে ক্লাসে। অন্যদিকে অফিসগামী মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলমগ্ন সড়কে আটকে থেকে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। বিশেষ করে নগরের ৩, ৭, ৯, ২২, ২৩ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। এর মধ্যে রূপসা নদীতে জোয়ার এলে দুর্ভোগ আরো বাড়ে; নদীর পানি নালা দিয়ে স্ট্যান্ড রোড, চানমারী, কেএমপি সদর দপ্তর এলাকা ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি সড়কে ঢুকে পড়ে।

খুলনার জলাবদ্ধতা নতুন কিছু নয়। ২০০৮-১৩ সালে তৎকালীন মেয়রের প্রথম মেয়াদে শতকোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। এরপর ২০১৮ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনেও এটি ছিল প্রধান প্রতিশ্রুতি। পরবর্তী সময়ে ৮২৩ কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প অনুমোদন পায়, যার আওতায় গত সাড়ে পাঁচ বছরে ২০০টির বেশি নালা নির্মাণ ও ময়ূর নদসহ সাতটি খাল খনন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

সিটি করপোরেশনের কনজারভেন্সি বিভাগের তথ্যমতে, নগরে মোট ১ হাজার ১৬৫ কিলোমিটার নালা রয়েছে। নতুন নির্মিত অধিকাংশ নালাই ঢাকনাযুক্ত। তবে এগুলো পরিষ্কারের কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা না থাকায় ম্যানুয়ালি পরিষ্কার করতে হচ্ছে, যা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অসম্ভব করে তুলেছে। এছাড়া নিয়মিত নালা পরিষ্কার না করা, নদী ও খাল দখল, জলাধার ভরাট এবং উন্নয়নকাজের কারণে নালা বন্ধ থাকাকে দায়ী করছেন নাগরিকরা। দৌলতপুর, খালিশপুর ও বয়রার পানি কারিগরপাড়া খাল হয়ে ময়ূর নদে যাওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সংস্কারহীনতায় তা বন্ধ রয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন একটি চলমান প্রক্রিয়া। অনেক কাজ শেষ হলেও পাম্প স্টেশন ও স্লুইসগেট সংস্কারের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো বাকি। এগুলো শেষ হলে পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন,"‘বিগত সরকারের আমলে এ সমস্যার গভীরে কেউ যায়নি। গত সাড়ে তিন মাসে আমরা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি। তবে চ্যালেঞ্জটা এমন যে এখনই কাজ শুরু করলেও তা শেষ করতে আরো এক-দেড় বছর লাগবে।’”

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন,"‘‌চার দশক ধরে প্রতিটি নির্বাচনে জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। সমন্বিত পরিকল্পনা ও নগরের ২২টি খালের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ছাড়া এটি সম্ভব নয়।

আরও