গ্রাহকের আমানত আত্মসাতের অভিযোগ

আহমেদীয়া সমবায়ের ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক করেছে সিআইডি

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে তিনি নিজের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করেন। এ ঘটনায় মনিরসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের নভেম্বরে কাফরুল থানায় ‘মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে’ একটি মামলা করা হয়।

গ্রাহকের ‘আমানত আত্মসাতের’ অভিযোগে আহমেদীয়া ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির আহমেদের মালিকানাধীন কাফরুল থানা এলাকায় অবস্থিত ‘ইউরো স্টার টাওয়ার’ নামক দশতলা বাণিজ্যিক ভবন ক্রোক করেছে সিআইডি। ভবনটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

অভিযুক্ত মনির আহমেদ (৫৩), ২০০৫ সালে আহমেদীয়া বহুমুখী সমবায় সমিতি নামে ঢাকা জেলা সমবায় সমিতি থেকে নিবন্ধন নেন। ২০০৬ সালে নাম পরিবর্তন করে আহমেদীয়া ফাইন্যান্স এন্ড কমার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে পুনঃনিবন্ধন নেন। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সমিতির মূল উদ্দেশ্য ছিল সদস্যদের কাছ থেকে সঞ্চয় ও শেয়ার আমানত সংগ্রহ করে তা থেকে সদস্যদের ঋণ প্রদান এবং তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করা। নিয়ম অনুযায়ী সমিতিটি শুধু সদস্যদের মধ্যেই ঋণ ও সঞ্চয় কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা থাকলেও, অভিযুক্ত মনির আহমেদ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে আমানত সংগ্রহ শুরু করেন। মিরপুর, ক্যান্টনমেন্ট, বনানী, মহাখালী, কাফরুলসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১,০০০–১,১০০ জনের কাছ থেকে অধিক মুনাফা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ৫৮ কোটি ৩৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে তিনি নিজের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করেন। এ ঘটনায় মনিরসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের নভেম্বরে কাফরুল থানায় ‘মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে’ একটি মামলা করা হয়।

তদন্ত চলাকালে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট ইব্রাহিম মৌজায় ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ জমির পর নির্মিত “ইউরো স্টার টাওয়ার” নামক বাণিজ্যিক ভবনের সন্ধান পায়। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ, মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা ১৬ জুলাই ভবনটি ক্রোকের আদেশ দেন। গ্রাহকের আমানতের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা ওই মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছে সিআইডি।

আরও