বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

পাঁচ দশকে খাদ্যশস্য উৎপাদন ৩০০ শতাংশের বেশি বাড়লেও স্বনির্ভরতা আসেনি

বাংলাদেশ কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ২৭ হাজার ৫০৭ টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়। এর মধ্যে চাল ৩ কোটি ৯০ লাখ ৯৫ হাজার টন, গম ১১ লাখ ৭০ হাজার টন এবং ভুট্টা রয়েছে ৪৫ লাখ ৬২ হাজার ৫০৭ টন।

স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকে বাংলাদেশের খাদ্যশস্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ১৯৭১ সালে দেশে চালের উৎপাদন ছিল প্রায় ৯৭ লাখ টন। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, সাম্প্রতিক সময়ে তা বেড়ে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ টনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ একই ধারার পরিসংখ্যান বিবেচনায় চালের উৎপাদন চার গুণেরও বেশি হয়েছে। উচ্চফলনশীল জাতের সম্প্রসারণ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সার ব্যবহার এবং কৃষি গবেষণার অগ্রগতি এ সাফল্যের প্রধান ভিত্তি।

তবে উৎপাদনের এ প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও খাদ্যশস্যের চাহিদা পূরণে আমদানির ওপর নির্ভরতা রয়ে গেছে। বিশেষ করে গমের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা বেশি। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আবাদযোগ্য জমির সংকোচন এবং কৃষি উৎপাদনের ক্রমবর্ধমান ব্যয় দেশের খাদ্যনিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।

বাংলাদেশ কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ২৭ হাজার ৫০৭ টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়। এর মধ্যে চাল ৩ কোটি ৯০ লাখ ৯৫ হাজার টন, গম ১১ লাখ ৭০ হাজার টন এবং ভুট্টা রয়েছে ৪৫ লাখ ৬২ হাজার ৫০৭ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ কোটি ৬ লাখ টন চাল, ১১ লাখ ৭২ হাজার টন গম এবং প্রায় ৪৮ লাখ ৭৬ হাজার টন ভুট্টা উৎপন্ন হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ৪ কোটি ৭১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৩৮ টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে চাল ৪ কোটি ৬ লাখ ৩০ হাজার টন, গম ১০ লাখ ৪১ হাজার টন এবং ভুট্টা ৫৫ লাখ ৫ হাজার ৫৩৮ টন। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। যদিও জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার (এফএও) হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়ে থাকতে পারে ৪ কোটি ৭৬ লাখ টন। এর মধ্যে ধান ৪ কোটি ১৫ লাখ টন, ১২ লাখ টন গম এবং বাকিটা ভুট্টা।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম অর্থবছরে (১৯৭২-৭৩ সালে) দেশে ৯৯ লাখ ৩০ হাজার টন ধান এবং ৯০ হাজার টন গম উৎপাদন হয়। সেই হিসাবে গত ৫২ বছরে (২০২৪-২৫ পর্যন্ত) দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৩৭০ শতাংশ। এর মধ্যে ধান উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি ৩০৯ শতাংশ। আর গমে এক হাজার শতাংশের বেশি উৎপাদন বেড়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরে বাংলাদেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন ৩ শতাংশ হারে বেড়েছে। কিন্তু শেষ দুই বছর এ প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে ছিল। দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়ছে কিন্তু আমদানি করতে হচ্ছে। এর কারণ জনসংখ্যার চাপ রয়েছে। ধান, গম ও ভুট্টার মতো খাদ্যশস্য এখন শুধু মানুষই খাচ্ছে না। পশুকেও খাওয়ানো হচ্ছে। পোলট্রি শিল্পের বিপ্লব ঘটেছে। ফলে এগুলোর চাহিদাও বেড়েছে। যে বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকে সে বছর চাল আমদানি করতে হয় না। আমদানি বেশি হচ্ছে গম ও ভুট্টা। এগুলোর দেশে চাহিদা ব্যাপক। তবে সে হারে উৎপাদন কম।’

আরও