নীলফামারী সদর টেক্সটাইল বাজার থেকে দিনাজপুর জেলার খানসামা বাজার পর্যন্ত সড়কটি যেন মরণফাঁদ। ১৪ কিলোমিটার এ সড়কে দুর্ঘটনার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। গত আট মাসেই নীলফামারী-দিনাজপুর সড়কের এ অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫ জন। আহতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক।
সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়রা বলছেন, সড়কের অবস্থা ভালো। খানাখন্দও নেই। সে হিসেবে চলাচলের জন্য এটি বেশ উপযোগী। তবে এ সড়কে যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। তদারকিতে রয়েছে অবহেলা। চালকদের প্রতিযোগিতা, বেপরোয়া গতি, অবৈধ যান চলাচলের আধিক্য, ইপিজেড ছুটির পর যানবাহন ও মানুষের ব্যাপক ভিড় দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এছাড়া সড়কে নেই পর্যাপ্ত গতিরোধক। ফলে নিয়ম না মেনে উচ্চগতিতে যানবাহন চালাচ্ছেন চালকরা। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনা।
একের অধিক অভিযোগ দেয়া সত্ত্বেও সড়ক ও জনপথ (সওজ) দিনাজপুর ও নীলফামারী অধিদপ্তর এসব অনিয়ম বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে।
এদিকে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, যানবাহনে অতিরিক্ত পণ্য বহন রোধ না করতে পারলে সড়কটি অল্প সময়ই নষ্ট হয়ে যাবে। তখন দুর্ঘটনা আরো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে।
সড়কটি নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সওজের দুই অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই যানবাহন চলাচল থামছে না। বরং প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনা। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পণ্য নিয়ে যান চলাচলে অল্প সময়ই বেহাল হয়ে যেতে বসেছে দুই জেলার বহুল আকাঙ্ক্ষিত সড়কটি।
নীলফামারী সদর হাসপাতালের দেয়া তথ্যমতে, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা গেছেন ১৫ জন। এর মধ্যে গত বছরের ১১ জুলাই দিনাজপুরের খানসামার চৌপথি বাজারসংলগ্ন এলাকায় উত্তরা ইপিজেডের শ্রমিক বহনকারী অটোরিকশার সঙ্গে বালিবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়। এতে আহত হয় সাতজন।
১৯ জুলাই একই এলাকায় দুজন সাইকেল আরোহী বালিবাহী ট্রাকে পিষ্ট হয়ে মারা যায়। ৩ আগস্ট দিনাজপুর পুলেরহাট এলাকায় বালিবাহী ট্রাকের সঙ্গে ভটভটির সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়। এতে আহত হয় পাঁচজন।
৮ ডিসেম্বর নীলফামারীর শালহাটি এলাকায় উত্তরা ইপিজেট শ্রমিক বহনকারী অটোরিকশার সঙ্গে বালিবাহী ডাম্প ট্রাকের সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর খানসামা সড়কের সাঁওতালপাড়া এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় একই পরিবারের দুজন ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায়।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের দিনাজপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। যত দ্রুত সম্ভব, আমরা এ জোনের অধীনে থাকা সড়কে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেব।
এ বিষয়ে কথা বলতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নীলফামারী জোনের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ মনজুরুল করিমের ব্যবহূত মুঠোফোনে একাধিক কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
নীলফামারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বিপিএম, পিপিএম বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
জানা যায়, বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ (সওজ) দিনাজপুর ও নীলফামারী অধিদপ্তরের আওতায় নীলফামারী সদর টেক্সটাইল বাজার হতে দিনাজপুর জেলার খানসামা বাজার পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্তকরণ ও মজবুত করার কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার শিপিং করপোরেশন লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি দুই জেলার দুই অধিদপ্তরের কাছে নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ করে সড়কটি গত বছরের সেপ্টেম্বরে হস্তান্তর করেন।