শূন্য কৃতকার্য শিক্ষাঙ্গন

ভঙ্গুর অবকাঠামো ও নেই গণিতের শিক্ষক

ঠাকুরগাঁওয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটিতে পরীক্ষার্থী ছিল চারজনের কম-বেশি। সবচেয়ে বেশি সাত পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল অনভার দিঘী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, শ্রেণীকক্ষ ও অবকাঠামোগত সংকট, পর্যাপ্ত একাডেমিক সহায়তা না পাওয়া, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করে বাড়তি সহায়তার অভাবে এমন সংকট তৈরি হয়েছে।

শূন্য পাস করা পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, অনভার দিঘী উচ্চ বিদ্যালয়, তেঁওয়ারিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়, রুহিয়া উপজেলার মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও হরিপুর উপজেলার রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল পাঁচজন। তাদের কেউ পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়টি রুহিয়া উপজেলার ঢোলারহাট ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে অবস্থিত। সরজমিনে দেখা যায়, সড়কের পাশেই বিদ্যালয়টির অবস্থান। দূর থেকেই চোখে পড়ে জরাজীর্ণ অবকাঠামো। মাঠে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দেখা যায়। কেউ কেউ টিনের ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১০ সালে এটি এমপিও-ভুক্ত হয় এবং ২০২৩ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়। তবে এরপর অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক সাতজন ও কর্মচারী পাঁচজন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ষষ্ঠ শ্রেণীতে ৩০, সপ্তম ২৮, অষ্টম ২৬, নবম ২৫ এবং দশম শ্রেণীতে ২৫ জন শিক্ষার্থী আছে। তবে সরজমিনে নয় শিক্ষার্থীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বিদ্যালয়ে অবকাঠামো ভবনের ভঙ্গুর অবস্থা। তিনটি মাত্র রুম রয়েছে। সেগুলোও পলেস্তারা করানো হয়নি। বিষয়ভিত্তিক গণিত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে।’

রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনজন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এদের মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে সব শিক্ষার্থী। রামপুর ভাতুরিয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটিতে অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষামূলক সহায়তার অভাব রয়েছে। শিক্ষার্থীরা সুযোগ সুবিধার কারণে বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। তাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তারা আসতে চায় না। যদি সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়, তবে উত্তরণ সম্ভব।

এছাড়া সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চারজন, অনভার দিঘী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সাত এবং ভূল্লী উপজেলার তেঁওয়ারিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাঁচজন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।

জেলার সাবেক শ্রেষ্ঠ শিক্ষক শাহাজাহান ই হাবীব (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, ‘শুধু শিক্ষার্থীদের দায়ী করলে সমস্যার সমাধান হবে না। একটি প্রতিষ্ঠানে যদি ধারাবাহিকভাবে ফলাফল খারাপ হয় সেখানে শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদানের মান, অবকাঠামো, একাডেমিক তদারকি এবং ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আকতার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’

আরও