স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর: নৌপরিবহন উপদেষ্টার সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠকে কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দরের নৌ বিভাগের কর্মচারী মো. ইব্রাহিম খোকন উপদেষ্টার কাছে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের অপসারণ দাবি করেন। তিনি বলেন, গত দেড় বছরে আমাদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। দেখা করতে গেলে দেখা পাই না। এ চেয়ারম্যানকে আর আমরা চাই না।

শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠকে বসেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

আজ বৃহস্পতিবার বন্দর কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে এ বৈঠক শুরু হয়। বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার অতিরিক্ত পরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) আঞ্চলিক কমান্ডার, চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, কোস্ট গার্ডের জোনাল কমান্ডার ও নেভি ইন্টেলিজেন্সের কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত আছেন।

জানা গেছে, শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে আজও বন্দরের কোনো টার্মিনাল দিয়ে কনটেইনার রফতানি হয়নি। খালাস হয়নি আমদানি পণ্যও। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বন্দরে পৌঁছান নৌপরিবহন উপদেষ্টা। এ সময় বন্দরের চার নম্বর ফটকে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীরা তার গাড়ির গতিরোধ করে। এ সময় গাড়ি থেকে নেমে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দরের নৌ বিভাগের কর্মচারী মো. ইব্রাহিম খোকন উপদেষ্টার কাছে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের অপসারণ দাবি করেন। তিনি বলেন, গত দেড় বছরে আমাদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। দেখা করতে গেলে দেখা পাই না। এ চেয়ারম্যানকে আর আমরা চাই না।

জবাবে উপদেষ্টা আন্দোলনকারীদের জানান, তিনি শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবেন। সেইসঙ্গে চেয়ারম্যানের এ পদে থাকা না থাকার বিষয়টিও বিবেচনা করবেন বলেও আশ্বাস দেন ।

গত শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালনের পর লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এর ফলে বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম কার্যত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কর্মবিরতির কারণে আজও বন্দরের তিনটি প্রধান টার্মিনাল জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। আজ সকাল থেকে বন্দরের বিভিন্ন ফটকে অবস্থান নিয়ে কর্মকর্তাদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেন আন্দোলনকারীরা। ফলে অপারেশনাল কার্যক্রমে যুক্ত কর্মকর্তারাও টার্মিনালে ঢুকতে পারেননি। এতে পতেঙ্গায় অবস্থিত বেসরকারি টার্মিনাল পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার ফলে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে কনটেইনারভিত্তিক রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তৈরি পোশাকসহ অন্য রফতানি খাতগুলোয় ঝুঁকি বাড়ছে।

আরও