দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) সমন্বিত পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম শুধু তদারকির মধ্যে সীমিত না রেখে স্বউদ্যোগে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
আজ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ পরামর্শ দেন।
শিক্ষামন্ত্রী বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী মানবসম্পদ গড়ে তুলতে দক্ষতা ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষার সাফল্য ও ব্যর্থতা কমিশনের ওপর নির্ভর করে। উচ্চশিক্ষা খাত দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। এ খাত সঠিকভাবে তদারকি ও এগিয়ে নিতে তিনি কমিশনকে নির্দেশনা দেন। ২০২৪ সালের পর কমিশনের অর্জন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা লিখিতভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানোর অনুরোধ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ। সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব কমিশনের প্রতিষ্ঠা, কার্যক্রম, অর্জন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাত কলেজের বিষয়ে সাময়িক সমাধান হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য অংশীজনদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ধারণ প্রসঙ্গে এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মান ধীরে ধীরে কমছে। এটি বড় সমস্যা। দেশে আন্তর্জাতিক মানের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অন্তত একটি মানসম্পন্ন স্নাতকোত্তর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
চেয়ারম্যান প্রফেসর ফায়েজ বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে দেশ উপকৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও উচ্চশিক্ষায় পাকিস্তান উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। সেখানে গবেষণায় উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের কারণে তা সম্ভব হয়েছে। যথাযথ পদক্ষেপ নিলে ৫-১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশও এ অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা ও বৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া কমিশনের পক্ষ থেকে উচ্চশিক্ষা কমিশন আইন দ্রুত অনুমোদন, চাকরি বিধিমালা সংশোধন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংকট সমাধান এবং সার্ক ফেলোশিপ পুনরায় চালুর দাবি উত্থাপন করা হয়।
এ সময় সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমান ও প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম এবং সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় প্রধানসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, হিট ও আইসিএসইটিইপি প্রকল্পের পরিচালক এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ও কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ড. মো. মহিবুল আহসান সভা সঞ্চালনা করেন।