ওরস্যালাইনের মোড়ক পরিবর্তন এসএমসির ৫০ বছর পূর্তি স্মারক

এসএমসির ওরস্যালাইন বাজারে এতদিন ওরস্যালাইন-এন নামে পরিচিত ছিল। আমরা এখন এটিকে নতুন প্যাকে বাজারে এনেছি। নতুন নাম এসএমসি ওরস্যালাইন। নাম পরিবর্তনের পেছনে দুটি কারণ রয়েছে।

ডায়রিয়া বা অন্য কোনো কারণে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে বাংলাদেশের কোটি মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য সমাধান এসএমসি ওরস্যালাইন। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুমোদিত ফর্মুলায় তৈরি, যা শরীরকে দ্রুত রিহাইড্রেট এবং প্রয়োজনীয় লবণ-পানির ঘাটতি পূরণ করে। এসএমসি তাদের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনকে স্মরণীয় করে রাখতে ওরস্যালাইনের নতুন প্যাক এনেছে। নতুনরূপে বাজারে আসা এসএমসি ওরস্যালাইনের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েফ নাসির। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফারিন জাহান সিগমা

এসএমসি ওরস্যালাইনের মোড়ক পরিবর্তনের উদ্দেশ্য কী?

এসএমসির ওরস্যালাইন বাজারে এতদিন ওরস্যালাইন-এন নামে পরিচিত ছিল। আমরা এখন এটিকে নতুন প্যাকে বাজারে এনেছি। নতুন নাম এসএমসি ওরস্যালাইন। নাম পরিবর্তনের পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। আমরা এ বছর এসএমসির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছি। এ উদযাপনের অংশ হিসেবে নতুন মোড়ক বাজারে এনেছি। আরেকটি দিকও আছে, জনপ্রিয়তার কারণে দীর্ঘদিন ধরে একই মোড়কে এটি বাজারে ছিল। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায়, এমন অবস্থায় নকল পণ্য বাজারে চলে আসে। ভোক্তারা তখন দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান। অনেক ক্ষেত্রে তারা এসএমসি ওরস্যালাইন মনে করে অন্য কোনো পণ্য কিনে নেন। ভোক্তারা এ ধরনের ভুল যাতে না করেন সেজন্য আমরা মোড়কে নতুনত্ব এনেছি। নতুনটি পুরনো মোড়কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও তা অন্যান্য নকল স্যালাইনের মোড়ক থেকে আলাদা। নতুন মোড়ক বাজারে আনার প্রাথমিক কারণ এ দুটিই। ৫০ বছর পূর্তিতে আমরা মোড়ক পরিবর্তন স্মারক হিসেবে ব্যবহার করছি। এছাড়া আমরা চাই ভোক্তারা যেন আমাদের পণ্যটিকে চিনতে এবং আসল পণ্যটি সহজে কিনতে পারেন।

মোড়কের এ পরিবর্তন সাধারণ মানুষকে জানানোর জন্য আপনারা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

২০ বছরের বেশি সময় ধরে মোড়কটি এক রকম ছিল। এ পরিবর্তন সম্পর্কে মানুষকে জানাতে আমরা গত ১৮ এপ্রিল থেকে কাজ করছি। আমরা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি। এছাড়া গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। আমাদের যারা বাণিজ্যিক অংশীদার রয়েছেন, যেমন রিটেইলার, সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। বিভিন্ন সেশনের মাধ্যমে এ সম্পর্কে জানাচ্ছি।

শুধু কি মোড়ক, নাকি ওরস্যালাইনে গুণগত কোনো পরিবর্তন এনেছেন?

এটি আমাদের পণ্যের দৃশ্যমান বা বাহ্যিক পরিবর্তন। প্রযুক্তিগত কিছুটা উন্নতিও হয়েছে। তবে পণ্যের গুণগত মানের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিবর্তন আসেনি।

অনেক জায়গায় নকল ওরস্যালাইন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে জনস্বার্থে আপনাদের কোনো ব্যবস্থা আছে কি?

নকল পণ্য রোধে আমরা সবসময় কাজ করেছি। যখন জানতে পারি যে কোনো জায়গায় নকল পণ্য আছে, সে সময় আমরা আইনের সহায়তা নিই। তারা আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করেন। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছি। এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কাজ আমরা অতীতেও করেছি এবং বর্তমানেও করছি।

ওরস্যালাইনের চাহিদা পূরণে আপনাদের সক্ষমতা কতটুকু?

ডায়রিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণ করা আসলে আমাদের পক্ষে সম্ভব না। ওরস্যালাইনের মূল কাজ হলো ডায়রিয়ার নেতিবাচক প্রভাব থেকে মানুষকে বাঁচানো। ডায়রিয়ার কারণে মানুষের শরীরের যে ইলেকট্রোলাইট বা বডি ফ্লুয়িড চলে যায়, সে ঘাটতি পূরণ করা। ’৮০ সালের দিকে ডায়রিয়ার জন্য ছিল আইসিডিডিআর,বির ওরস্যালাইন। সেটি নিতে হলে আইসিডিডিআর,বিতে যেতে হতো। পণ্যটিকে আমরা ভোক্তা ব্যবহার উপযোগী করে বাজারে এনেছি। অন্য অংশীদারদের সহায়তায় এসএমসি কাজটি করেছে। বর্তমানে এসএমসির ওরস্যালাইন দেশের সব প্রান্তে পাওয়া যায়। আমাদের ভোক্তার চাহিদা পূরণ করার মতো সক্ষমতা রয়েছে। যার কারণে পণ্যটি বাজারে কখনো ঘাটতি দেখা দেয়নি। ডিস্ট্রিবিউশনের সমন্বয়ের অভাবে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এ ব্যতীত বার্ষিক চাহিদা পূরণে আমাদের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে।

ডায়রিয়ার প্রকোপ দিন দিন কমছে। ওরস্যালাইনের চাহিদা কি আগের মতোই আছে?

বৈশ্বিক আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে, তাপমাত্রা দিন দিন বাড়ছে। তাপমাত্রা ও হিউমিডিটি বাড়লে বডি ফ্লুয়িড লস বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে ইলেকট্রোলাইটের লসও হয়। এসব ঘাটতি পূরণে ওরস্যালাইন ভূমিকা রাখে। ডায়রিয়ার প্রকোপ কমলেও অন্য আরো কার্যকারিতার জন্য বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। ওরস্যালাইন মূলত শরীরে ডায়রিয়ার নেতিবাচক প্রভাব কমাতে বাজারে আনা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি অন্যান্য কাজেও আসছে। যারা কায়িক পরিশ্রম বা জিম করেন, তারা ক্লান্তি-অবসাদ দূর করার জন্য ওরস্যালাইন গ্রহণ করেন। এভাবে পণ্যটি ডায়রিয়া নেতিবাচক প্রভাব দূর করা থেকে শুরু করে বডি ফ্লুয়িডের ঘাটতি পূরণ করে আসছে।

আধুনিক চিকিৎসা ও মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ কমেছে। কিন্তু স্যালাইনের চাহিদা খুব একটা কমেনি। সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি বিকল্প পণ্য হিসেবে ওরস্যালাইনের ব্যবহার বেড়েছে। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এসএমসির ওরস্যালাইন কীভাবে ভূমিকা রাখছে?

এসএমসির মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের জীবনযাত্রার মানকে উন্নত করা। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা। আমরা মূলত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীদের কথা মাথায় রেখে কাজ করি। যার কারণে আমাদের পণ্যের চাহিদা বা জনপ্রিয়তা গ্রামের মানুষের কাছে বেশি। শহরাঞ্চলের মানুষের কাছে এ পণ্যের চাহিদা সীমিত। শহরে কেউ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে হাসপাতালে যাচ্ছেন। উন্নত সেবা নিতে পারছেন। কিন্তু গ্রামের মানুষের ক্ষেত্রে এ সুযোগের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আগে ডায়রিয়ার চিকিৎসার জন্য তেমন কোনো সরঞ্জাম ছিল না। এসএমসির ওরস্যালাইন গ্রামে এ ভূমিকা রাখছে। এটি আমাদের ফ্ল্যাগশিপ ব্র্যান্ড। এসএমসির সফলতার পেছনে এর অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে।

ওরস্যালাইন বানানো ও খাওয়ার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে এখনো অনেকে অবগত নয়, এ বিষয়ে আপনাদের প্রতিষ্ঠান কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে?

এটি আমরা করে আসছি। আবার আমাদের প্যাকেটের গায়ে লেখা আছে। এছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ে কর্মীদের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে এটির সঠিক ব্যবহার বিষয়ে বিভিন্ন সেশন নেয়া হয়। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণেও মানুষকে এ বার্তা দেয়া অনেকটা সহজ হয়েছে।

আরও