উপজেলার করতোয়া নদীর বেতবাড়ী-পূর্ব সাতবাড়িয়া ঘাটে বাধ্য হয়ে এখন দড়ি টেনে নৌকা পারাপার করছেন মাঝিরা। এতে নদী পার হতে সময় বেশি লাগায় প্রতিদিন যাতায়াতকারী অন্তত ২০ হাজার মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগীসহ হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। আগে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় দ্রুত পারাপার সম্ভব হলেও বর্তমানে তেলের অভাবে তা বন্ধ। প্রতিদিন ১৪ ঘণ্টা সেবা দিতে অন্তত তিন লিটার ডিজেল প্রয়োজন হলেও বরাদ্দ মিলছে মাত্র এক লিটার। ফলে গত দুই সপ্তাহ ধরে নদীর দুই পাড়ে দড়ি বেঁধে টেনে নৌকা চালানো হচ্ছে।
ঘাটের মাঝি আব্দুল লতিফ জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ডিজেল সরবরাহ কমে গেছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে যে পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে অর্ধেক সময়ও ইঞ্জিন চালানো সম্ভব নয়। নিরুপায় হয়েই কায়িক পরিশ্রমে দড়ি টেনে নৌকা সচল রাখা হয়েছে। এতে সময় ও কষ্ট—দুই-ই বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইয়ামিন হোসেন জানান, নদী পারাপারে দেরি হওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন হাসপাতালের রোগী ও কৃষিপণ্য বহনকারী ব্যবসায়ীরা। শিক্ষার্থীরাও যথাসময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না। দ্রুত প্রয়োজনীয় তেল বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম আরিফ বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে তেল রেশনিং করা হচ্ছে। ঘাটমাঝিদের সমস্যার বিষয়টি আমরা জানি। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে এ সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’