সিলেটে শ্রমমন্ত্রী

কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই

বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে যোগ্য, দক্ষ ও আত্মনির্ভর মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।’

শিক্ষার্থীদের শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবমুখী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। এ সময় ভবিষ্যতে কোন ক্ষেত্রে পড়াশোনা ও কর্মজীবন গড়ে তুলবে, সে বিষয়ে লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন।’ 

বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে যোগ্য, দক্ষ ও আত্মনির্ভর মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।’ 

গতকাল সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরিফুল হক চৌধুরী এসব কথা বলেন। কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুমেরী জামান ও উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী।   

আরিফুল হক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভাষা, তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ‘গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজে ছাত্রীদের লেখাপড়ায় আগ্রহ ও অংশগ্রহণ খুবই প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল ও শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কলেজে ছাত্রীদের দূরবর্তী এলাকা থেকে এসে পড়াশোনার সুযোগ বাড়াতে একটি ছাত্রীনিবাস নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।’ 

একই সঙ্গে অনার্স চালুর জন্য প্রস্তাবিত পাঁচটি বিষয়ে দ্রুত অনুমোদনের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে কলেজে প্রয়োজন অনুযায়ী আরো আইসিটি ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ইংরেজি, জাপানি, কোরিয়ান ও আরবি ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’

এ লক্ষ্যে গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘সিলেটের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে ঐতিহ্য রয়েছে। একসময় সিলেটের বহু মানুষ সিভিল সার্ভিস, সামরিক বাহিনী, পুলিশ, চিকিৎসা ও প্রকৌশলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বর্তমান প্রজন্মকে মানসম্মত শিক্ষা ও যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে সে ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে।’

আরও