রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রুপি বড়ুয়া রয়া। গত ২১ জুলাই ওই স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে তার হাত, পা, মুখ ও পিঠসহ শরীরের প্রায় ২০ শতাংশ পুড়ে যায়। তিন মাসেরও অধিক সময় ধরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা চলছে তার। এদিকে চোখের সামনে এত বড় দুর্ঘটনায় মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে। যার প্রভাবে পড়ালেখায় পূর্ণ মনোযোগী হতে পারছে না। স্বজনদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘ সময় কাজ না করে পরিবারের সবাই মিলে রুপিকে সময় দেয়ায় এবং অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
শুধু রুপি বড়ুয়া রয়া নয়, রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় দগ্ধ ও আহত অধিকাংশ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের একই চিত্র। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ দগ্ধ শিশু এখনো ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে। হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিলেও তাদের নিয়মিত চেকআপ করাতে হচ্ছে। অনেকের ক্ষত শুকালেও নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নিতে হচ্ছে। তবে মানসিকভাবে কম-বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে আহতদের প্রায় সবাই। তাদের দরকার বিশেষজ্ঞ মানসিক চিকিৎসকের অধীন উন্নত কাউন্সেলিং। এদিকে পরিবারের আদরের ছোট্ট সদস্যের চিকিৎসায় দু-হাতে অর্থ ব্যয় করে এখন আর্থিক সংকটে পড়েছেন স্বজনরা। বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেও আর্থিক কোনো সহযোগিতা পাননি তারা। এছাড়া পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না পাওয়াসহ চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনেছেন স্বজনরা।
এদিকে এ দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে যুদ্ধবিমানের পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে তদন্তে। ঘটনার সাড়ে তিন মাস পর গতকাল দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেন কমিটির প্রধান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল এসএম কামরুল হাসান।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পরে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবদনের কিছু তথ্য ও কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘পাইলটের উড্ডয়নের ত্রুটির জন্য এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনিংয়ের সময় তিনি যখন ফ্লাই করছিলেন, পরিস্থিতি তার আয়ত্তের বাইরে চলে যায়।’ তিনি জানান, তদন্ত কমিটি ১৫০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে; এর মধ্যে এক্সপার্ট, ভুক্তভোগী আছেন। সবার সঙ্গে কথা বলে তারা ১৬৮টি তথ্য উদ্ঘাটন করেন। এর মধ্যে ৩৩টি সুপারিশ করেছেন। প্রধান যে সুপারিশ করা হয়েছে তা হলো জননিরাপত্তার স্বার্থে এখন থেকে বিমান বাহিনীর সব প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ঢাকার বাইরে পরিচালিত হবে। তিনি জানান, তদন্তে আরো পাওয়া গেছে, মাইলস্টোন স্কুলের ভবন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিল্ডিং কোডের অনুমোদন নিয়ে হয়নি। এ ভবনে ন্যূনতম তিনটি সিঁড়ি থাকার কথা ছিল, সেখানে ছিল একটা সিঁড়ি মাঝ বরাবর। বিশেষজ্ঞ কমিটি বলছে, তিনটি সিঁড়ি থাকলে হতাহতের সংখ্যা আরো কম হতো। এছাড়া আরো সুপারিশের মধ্যে আছে, বরিশাল ও বগুড়ায় রানওয়ে আছে, সেটাকে সম্প্রসারণ করার। মিটিংয়ে সেই নির্দেশনা দেয়া হয়। রাজউকের বিল্ডিং কোড যাতে নতুন সম্প্রসারিত এলাকায় পালিত হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
প্রেস সচিব বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এয়ারপোর্টের আশপাশে যেন “ফোম টেন্ডার” থাকে সে বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। এটা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে টেক অফ ও ল্যান্ডিংয়ের জন্য বাড়ি বানানোর ক্ষেত্রে উচ্চতার একটা বিধিনিষেধ আছে। অন্যান্য দেশে দেখা যায়, টেক অফ ও ল্যান্ডিংয়ের পথে কিছু কিছু স্থাপনার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকে। যেমন হাসপাতাল, স্কুল, ওয়্যারহাউজ, ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আছে, এদিকে যাতে সিভিল এভিয়েশন নজর রাখে, সে বিষয়ে বলা হয়েছে।’
তিনি জানান, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে অনেক জায়গায় বিমানবন্দর আছে, সেগুলো যাতে ঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।
যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৩৬ জন নিহত হন। এর অধিকাংশই শিক্ষার্থী। বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও নিহত হন। এ ঘটনা নিয়ে নয় সদস্যের এই তদন্ত কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।
এদিকে চিকিৎসাসেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রুপি বড়ুয়া রয়ার দিদি একা বড়ুয়া জয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পুরোপুরি সুস্থ না হলেও হাসপাতালের পরিবেশ ভালো না থাকায় নিয়মিত ফলোআপের শর্তে রিলিজ নেয়া হয়েছে। এখন ১৫ দিন পরপর হাসপাতালে গিয়ে ফলোআপ চিকিৎসা নিতে হয়। আমার বোনের শরীরের দগ্ধ অংশ ফুলে যাচ্ছে। তাই প্রেসার গার্মেন্ট পরিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। প্রেসার গার্মেন্ট পাওয়া গেলেও সিলিকন শিট (সহযোগী পণ্য) পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে সিলিকন শিটের সরবরাহ নেই।’ সরকার থেকে মাইলস্টোনের আহতদের আর সহযোগিতা না করার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
একই অভিযোগ মাইলস্টোনের পঞ্চম শ্রেণীর আরেক দগ্ধ শিক্ষার্থী কাফি আহমেদের স্বজনদেরও। ডান হাত, বুক ও মুখের ক্ষত পুরোপুরি না শুকালেও প্রায় এক মাস আগে তাকে রিলিজ দেন চিকিৎসকরা। এখনো দগ্ধ হাত নিয়ে ভোগান্তি পোহানোর অভিযোগ করেছেন কাফির মা। মোবাইল ফোনে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ডাক্তাররা তো রিলিজ দিতে পারলে বেঁচে যায়! রিলিজ দেয়ার সময় হাতে একটা অপারেশন করতে হবে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকরা এখন বলছেন যে সরকার আর চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ করতে চাচ্ছে না। পরে আমরা নিজেদের খরচে চিকিৎসা করাতে চেয়েছি। বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা মেডিকেল বোর্ড গঠন করে আমাদের জানাতে চেয়েছেন।’ চিকিৎসকরা আরো দুই বছর এভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বলেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মধ্যবিত্তরা আর্থিক সংকট কাউকে বলতে পারে না। কেউ বুঝতেও চায় না। হঠাৎ এমন ঘটনায় প্রকট আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। কাফির মানসিক সমস্যাও দেখা দিয়েছে। এসব সরকারের বোঝা উচিত।’
চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং প্লাস্টিক সার্জারি ও বার্ন বিভাগের প্রধান মারুফ অর্পিও বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছি। তাদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতের জন্য দেশের বাইরে থেকেও টিম এসেছে। এখন তারা কেন এ ধরনের অভিযোগ করছেন তা আমার জানা নেই। তবে সরকার থেকে ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছে এটি সত্য। কারণ এত বড় দুর্ঘটনার জন্য আমরা কেউ প্রস্তুত ছিলাম না। তবে এখানে আমাদের চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি ভর্তি থাকা অবস্থায় চিকিৎসার পেছনে তাদের এক টাকাও খরচ হয়নি।’
তীব্র অর্থ সংকটের কথা জানিয়েছে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মেহরিনের স্বজনেরাও। শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হওয়ার পর টানা প্রায় তিন মাস বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিল। বর্তমানে মেহরিনের শারীরিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে নিতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার মামা ফাহাদ হোসেন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওষুধপত্রসহ সব ধরনের চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করলেও যাতায়াত ও রোগীর খাবারসহ আনুষঙ্গিক অনেক খরচ আমাদের নিজেদের বহন করতে হতো। যদিও বিমান বাহিনী থেকে দুজনের খাবার দিত। সব মিলিয়ে হিসাব করে দেখেছি আমাদের ৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া রিলিজ পাওয়ার পর বর্তমানে ওষুধপত্র ও ব্যান্ডেজসহ সবকিছু নিজেদের কিনতে হচ্ছে। নিয়মিত ফলোআপের জন্য রোগীকে নিতে পরিবহন ব্যয়ও হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই লম্বা সময় পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিসহ সবাই মেহরিনের পেছনে নিয়োজিত থাকায় আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছি আমরা। যা পরিবারের জন্য মানসিক সংকটেরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ এ অবস্থায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকার, বিমান বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান তিনি।
দীর্ঘদিন হাসপাতালের চার দেয়ালে চিকিৎসাধীন থাকায় মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক শিশু। অপরদিকে পড়ালেখা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তায় রয়েছেন স্বজনেরা। জীবনের প্রারম্ভিক পর্যায়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া সন্তানকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা প্রদানকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন নুর-ই-জান্নাত ইউশার মা ইয়াসমিন আক্তার। তবে সন্তানের ভয় কাটিয়ে আগামীর পথচলাকে সুন্দর ও সফল করতে থেমে নেই তিনি। সন্তানের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ইয়াসমিন আক্তার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের মেয়ে ব্যাপকভাবে আহত হয়েছিল। এখন শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি দিতে হয়। সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো দুর্ঘটনার আতঙ্ক এখনো ওর মন থেকে যায়নি। এখন জোরে কোনো শব্দ শুনলে বা আকাশে বিমান যেতে দেখলে ভয় পায়। ভয় কাটাতে স্কুলেই মানসিক কাউন্সিলিং করানো হচ্ছে।’ আরো উন্নত কাউন্সিলিংয়ের জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে নেয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।
এ বিষয়ে ইউশা জানায়, ‘বাসায় মা বলেন, ভয় করা যাবে না; প্লেন আর আসবে না। কাউন্সিলিংয়ের আন্টিও একই কথা বলেন। কিন্তু আমার এখনো খুব ভয় লাগে!’
মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের উন্নত কাউন্সিলিং প্রদানের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. তৈয়বুর রহমান। এরই মধ্যে একজন শিক্ষার্থী বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসাধীন জানিয়ে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই মাইলস্টোনের কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে আছি। ভয়াবহ দুর্ঘটনা-পরবর্তী শিশুদের বর্তমান মানসিক অবস্থা জানতে একটি স্টাডি চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে একটি শিশুর উন্নত মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজনের কথা জানতে পেরেছি। আমাদের এখানে মাইলস্টোনের শিশুদের জন্য একদম বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো বাবা-মা প্রয়োজন মনে করলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’
দুর্ঘটনায় ৩৬ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীর মৃত্যুর পাশাপাশি আহত হন আরো অন্তত ১৫০ জন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহতরা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়। সম্প্রতি হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সেখানে এমন রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৭ জন, যাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩১ জন। অন্যরা মারা গেছে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি আছে পাঁচ শিশু। এছাড়া অনেকে রিলিজ পেলেও নির্দিষ্ট সময় পর পর তাদের ফলোআপের জন্য আসতে হয়। এই দীর্ঘ যাত্রায় সরকারি-বেসরকারি কোনো পক্ষ থেকেই আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনদের অনেকে।
মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ও আহত শিক্ষার্থীদের জন্য ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন এ রিট দায়ের করেন।
এদিকে নিহত পরিবার ও আহত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি নাজমুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ক্ষতিপূরণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছি। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলসহ বিভিন্নজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। কিন্তু ক্ষতিপূরণ মেলেনি। আমরা বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করছি। ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা রিটের শুনানির দিকেও তাকিয়ে আছি আমরা।’