পিএইচপি ত্রুটি

চার শতাধিক সরকারি সেবার কেন্দ্রীয় প্লাটফর্ম মাইগভ ডট বিডি বন্ধ

পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে সতর্কতা জারির পর গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক সাময়িকভাবে তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। একই ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয় আরো কয়েকটি ব্যাংকও।

বিশ্বব্যাপী বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পর এবার বন্ধ রাখা হয়েছে সরকারি সেবার কেন্দ্রীয় অনলাইন প্লাটফর্ম মাইগভ ডট বিডি (mygov.bd)। চার শতাধিক সরকারি সেবা এক জায়গা থেকে দেয়ার এ প্লাটফর্ম রোববার দিবাগত রাত থেকে বন্ধ রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, প্রয়োজনীয় প্যাচ হালনাগাদ ও সিস্টেম আপগ্রেডেশন কাজের জন্য ওয়েবসাইটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে এটুআই।

মাইগভ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার নাগরিক সেবা এক প্লাটফর্মে পাওয়ার সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে নাগরিকরা বিভিন্ন সরকারি সেবার জন্য অনলাইনে আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং সেবার অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য পেতে পারেন। গতকাল রাত থেকে একাধিকবার ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশের চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি। এ সময় সাইটে ‘ওয়েব সার্ভার ইজ ডাউন’ বার্তা দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা আপগ্রেডের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাইটটি বন্ধ থাকবে।

এটুআইয়ের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (ন্যাশনাল পোর্টাল) এবং ডিজিটাল প্রডাক্ট ম্যানেজমেন্ট-১-এর ক্লাস্টার হেড ফজলুল জাহিদ পাভেল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সিস্টেম আপগ্রেডেশনের কাজের জন্য সরকারি সেবার কেন্দ্রীয় প্লাটফর্ম মাইগভ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। প্লাটফর্মটির নিরাপত্তা স্তর আরো জোরদার করতে এবং প্রয়োজনীয় প্যাচ আপডেট দিতে প্রযুক্তি দল কাজ করছে। ২২ অক্টোবর প্লাটফর্মটির নিরাপত্তা ও আপগ্রেডেশন নিয়ে কাজ শুরু হয়। চূড়ান্ত আপগ্রেডেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে বর্তমানে ওয়েবসাইটটি ডাউন রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা স্তরের প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষ হওয়ার পরই প্লাটফর্মটি পুনরায় চালু করা হবে।’ বিষয়টিকে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা পরিস্থিতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত মাইগভ কোনো ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে পিএইচপি-ভিত্তিক ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট, অ্যাপ ও অন্যান্য অনলাইন সেবার নিরাপত্তা যাচাই জোরদার করে। বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান ঝুঁকি যাচাই ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদের জন্য সাময়িকভাবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখে।

পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করায় দেশের সরকারি-বেসরকারি শতাধিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন পিএইচপির পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ সংস্করণ ব্যবহারের কারণে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুর্বলতা শনাক্ত করে সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে অননুমোদিত প্রবেশ, তথ্য চুরি এবং সেবা অচল করে দেয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানায় সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট। গত ২২ অক্টোবর সাইবার হামলার সতর্কতা জারির পর গত রোববার আবারো এ-সংক্রান্ত সতর্কবার্তা প্রকাশ করে সার্ট। ‘আনরিজলভড পিএইচপি সিকিউরিটি এক্সপোজারস ইন গভর্নমেন্ট, পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট সেক্টর অর্গানাইজেশনস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সতর্কবার্তায় ঝুঁকিপূর্ণ পিএইচপি সংস্করণ শনাক্ত, নিরাপত্তা প্যাচ প্রয়োগ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সংস্করণ হালনাগাদের ওপর গুরুত্ব দেয় সংস্থাটি।

পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে সতর্কতা জারির পর গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক সাময়িকভাবে তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। একই ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয় আরো কয়েকটি ব্যাংকও। পরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই ও হালনাগাদ শেষে প্রতিষ্ঠানগুলো আবার ওয়েবসাইট চালু করে।

নিরাপত্তা ত্রুটি ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংকট শুরু হয় ২০-২১ অক্টোবর। পিএইচপি কর্তৃপক্ষ দুটি গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্তের কথা জানানোর পর ২১ অক্টোবর জরুরি নিরাপত্তা হালনাগাদ প্রকাশ করে। দ্রুত প্যাচ হালনাগাদ অথবা তা সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়। দুর্বলতা প্রকাশ্যে আসার পর ২১ অক্টোবরই ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে সরকারি ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা বন্ধ হতে শুরু করে। এশিয়ায়ও এর প্রভাব পড়ে। জাপানে সরকারি মন্ত্রণালয়, ব্যাংক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

আরও