শরতের ঝড়ে উত্তরাঞ্চলে আট শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

শরতে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ঝড়ো হাওয়া। রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালের এ ঝড়ে রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে আট শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছ। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় বেশ কিছু এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধান, কলা, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন ও অন্যান্য ফসল।

শরতে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ঝড়ো হাওয়া। রোববার (৫ অক্টোবর) সকালের এ ঝড়ে রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে আট শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছ। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় বেশ কিছু এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধান, কলা, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন ও অন্যান্য ফসল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৭টার দিকে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত নোহালী ও আলমবিদিতর ইউনিয়নে ঝড় শুরু হয়। আধা ঘণ্টার ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে অন্তত ছয় শতাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাট। উপড়ে গেছে অনেক গাছপালা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধানখেত। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় অনেক এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

নোহালী ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ আলী জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মাঝারি বৃষ্টিপাতসহ প্রচণ্ড বেগে ঝড় বয়ে যায় ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকার ওপর দিয়ে। প্রায় ৩০ মিনিটের ঝড়ে বাগডহরা, বৈরাতি, পূর্ব কচুয়া, পশ্চিম কচুয়া, নোহালী, চর নোহালীসহ বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ৪৫০টি পরিবারের বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে গাছপালা। মাটিতে ন্যুয়ে পড়েছে ধানগাছ।

আলমবিদিতর ইউনিয়নের মেম্বার রেজাউল হক জানান, ঝড়ে ইউনিয়নের খামার মোহনা, কুতুবপাড়া, কুতুব গণেশসহ বিভিন্ন গ্রামে অন্তত ২০০টি পরিবারের বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে এক কৃষকের দুটি গরু মারা গেছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় এসব এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজিবুল করিম জানান, দুর্গত এলাকায় জরুরি খাদ্য সহায়তা হিসেবে শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, উপজেলার কিছু এলাকায় ঝড়ে ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। জরুরি খাদ্য সহায়তাও করা হচ্ছে।

অন্যদিকে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের শ্রুতিধর ও চর নোহালী গ্রামে ঝড়ে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়ে উড়ে যায় ঘরের টিনের চালা, ভেঙে পড়ে আধাপাকা ও কাঁচা বাড়ির দেয়াল। গাছপালা উপড়ে পড়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পুরো এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ঘর হারানো ছফুরউদ্দিন বলেন, ‘আমার তো আর কিছু রইল না। সব সম্বল মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। কোথায় যাব এই বৃদ্ধ বয়সে?’

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তাদের খাবার ও জেলা প্রশাসানের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা দেয়া হবে।’

এদিকে নীলফামারীতে কয়েক মিনিটের ঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সকালে কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম বানিয়াপাড়া গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কয়েক মিনিটের ঝড়ে ধান, কলা, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন ও অন্যান্য ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা ভেঙে পড়েছে এবং কিছু দোকানপাটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কয়েকটি গ্রামে।

বানিয়াপাড়া গ্রামের নাসিমা বেগম বলেন, ‘সকালে রান্না করছিলাম, হঠাৎ ঝড়ের শব্দ পেলাম। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরের চালা উড়ে গেল। এখন সব ঠিক করতে হবে। জানি না কীভাবে করব, আমরা গরিব মানুষ।’

গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জোনাব আলী বলেন, ‘ঝড়েশতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে।’

কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রীতম সাহা বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবেউদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের পাঠানো হয়েছে। গবাদিপশু ও মানুষের চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল টিম প্রস্তুত করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় আপাতত শুকনো খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

আরও