জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘ভোট ব্যাংক’ ভাবার ধারণা ভেঙে গেছে

জাতীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে সবাই বাংলাদেশের নাগরিক উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের কাছে সেটি মুখ্য নয়। বাংলাদেশের সব নাগরিক—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠীর মানুষ—নিজ নিজ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতি স্বাধীনভাবে পালন করবেন।’

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে বিবেচনা করার ধারণা ভেঙে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তি এ দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজেদের ভোট ব্যাংক মনে করত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনারা সেই ভ্রান্ত ধারণা ও মিথ ভেঙে দিয়েছেন।’

গতকাল বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড় থেকে শুরু হওয়া জন্মাষ্টমীর র‌্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানে সব ধর্মের ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্র তা নিশ্চিত করবে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার এবং নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না—সংবিধানে এ কথাও বলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয়, উপাসনালয়ের দায়িত্বশীলদের স্বাধীনতা এবং উপাসনালয় স্থাপনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব বিষয় শুধু সংবিধান বা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবেও নিশ্চিত করতে চায় সরকার।’

জাতীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে সবাই বাংলাদেশের নাগরিক উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের কাছে সেটি মুখ্য নয়। বাংলাদেশের সব নাগরিক—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠীর মানুষ—নিজ নিজ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতি স্বাধীনভাবে পালন করবেন।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতিই হবে প্রধান পরিচয়। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এ ধারণাকে সামনে রেখে জাতীয় পরিচয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের পাশাপাশি সবাইকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করতে হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে কেউ নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় দেবেন না। ধর্মের ভিত্তিতে নয়, সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে হবে।’

‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দবন্ধের পরিবর্তে ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি’ ও ‘সামাজিক শান্তি’ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দটির পরিবর্তে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহাবস্থান, সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতির কথা বলা যেতে পারে।’

আরও