সেমিনারে বক্তারা

‘জুলাই গণহত্যার বিচার ও ফ্যাসিবাদী রাজনীতি নিষিদ্ধে প্রয়োজন জাতীয় ঐকমত্য’

শনিবার (২২ মার্চ) সামাজিক আন্দোলন ‘নাগরিক বিকাশ ও কল্যাণ‘ (নাবিক) এর উদ্যোগে তরুণ পেশাজীবীদের নিয়ে সেমিনার ও ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন বক্তারা।

‘২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ঘটে যাওয়া বর্বর গণহত্যার বিষয়ে বর্তমানে প্রায় সব রাজনৈতিক দল এবং শ্রেণী পেশার মানুষের বিচারের আকাঙ্ক্ষা ও ঐকমত্য রয়েছে। বিচারের গতি, পদ্ধতি এবং প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন থাকলেও এ ইস্যুতে জাতীয় জীবনে ঐক্য দেখা দিয়েছে। জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবি সর্বজনীন।

দেশের অভ্যন্তরে থাকা এবং এরই মধ্যে গ্রেফতার হওয়া গণহত্যাকারী, লুটপাটকারীদের বিচারের বিভিন্ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে বিদেশে পালিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট নেতাদেরকে বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে ঠিক কীভাবে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে কিংবা তা আদৌ সম্ভব কিনা তা নিয়ে রয়েছে নানান ধরনের মত। নাবিক মনে করে, তাদের দেশে ফেরাতে এবং শান্তির আওতায় আনতে না পারলে জুলাই গণহত্যার বিচারের উদ্দেশ্য অনেকাংশেই ম্লান হয়ে যাবে।’

শনিবার (২২ মার্চ) সামাজিক আন্দোলন ‘নাগরিক বিকাশ ও কল্যাণ‘ (নাবিক) এর উদ্যোগে তরুণ পেশাজীবীদের নিয়ে সেমিনার ও ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন বক্তারা। রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার ও ফ্যাসিবাদী রাজনীতি নিষিদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য’ শিরোনামে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নাবিকের সভাপতি ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। সেমিনারে নাবিকের পক্ষে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মুস্তাসিম তানজীর।

সেমিনারে বক্তারা বিদেশে পালিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদী নেতৃত্ব বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নাবিকের ধারণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যার বিচার এখন সর্বজনীন দাবি হয়ে উঠেছে। দেশের সব শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে এক ধরনের ঐক্য গড়ে উঠেছে। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়ার গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে এখনো বহু প্রশ্ন রয়ে গেছে।’

সেমিনারে আলোচকরা বলেন, ‘অতীতে বসনিয়া, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে গণহত্যাকারীদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের নজির রয়েছে।’ তারা মনে করেন, বাংলাদেশে আইসিসির মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া চালু করা হলে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ সৃষ্টি হবে এবং আশ্রয়দাতা রাষ্ট্রগুলোর ওপর কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তার সম্ভব হবে।

নাবিকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ফ্যাসিবাদী রাজনীতি নিষিদ্ধ করার বিষয়েও জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা জরুরি। জার্মানি, ইতালি ও স্পেনের উদাহরণ টেনে বক্তারা বলেন, এসব দেশে ফ্যাসিবাদী দল ও আদর্শকে সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এমন ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। ফ্যাসিবাদের দোসর ও সহযোগীদের চিহ্নিত করা এবং প্রশাসন, পুলিশ ও বিচার বিভাগে তাদের নিষ্ক্রিয় করা ছাড়া প্রকৃত বিচার সম্ভব নয়।’ বক্তারা ফ্যাসিবাদ নির্মূলের জন্য জাতীয় ঐকমত্য বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। সবার জন্য উন্মুক্ত ও তথ্যভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমেই জাতি এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সেমিনারের সমাপনী বক্তব্যে ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে এবং ফ্যাসিবাদ নির্মূল করতে হলে গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে আরো কার্যকর ও এ বিচার প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করতে হবে।’

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার ও বিবিসি বাংলার সাবেক সাংবাদিক আকবর হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব রবিউল ইসলাম, সোমালিয়ার দারুস সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আসিফ মিজান, চিন্তক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি, লেখক ও গবেষক জাকারিয়া পলাশ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আকতার। আরো উপস্থিত ছিলেন ক্যামব্রিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ নিশাত হক, নাবিকের সহ-সভাপতি বুরহান উদ্দিন ফয়সাল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ হাসান, লেখক ও গবেষক শাহাদাৎ স্বাধীন, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহবায়ক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য ইয়াহিয়া জিসান, গণ অধিকার পরিষদের উচ্চতর সদস্য শাকিলুজ্জামান, ব্যারিস্টার ইনজামাম উল হক, ব্যারিস্টার মোজাম্মেল হক, ব্যারিস্টার আফাক আহমেদ, ব্যারিস্টার কার্জন সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট তৌফিক শাহরিয়ার খান, অ্যাডভোকেট তানভীর আলম খান, অ্যাডভোকেট খুরশিদা জাহান মিতা প্রমুখ।

আরও