ইউএপির ‘‌রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান

গবেষণার মান নিশ্চিত করে পিএইচডি ডিগ্রি দেয়ার সুযোগ পাবে যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের যোগ্য ও সক্ষম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের সুযোগ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

দেশের যোগ্য ও সক্ষম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের সুযোগ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। তবে গবেষণার মান ও একাডেমিক সততা নিশ্চিত করেই এ সুযোগ দেয়া হবে। এক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ এড়াতে গবেষণার মান নিশ্চিত করতে হবে।

গতকাল রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এ কথা বলেন। ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কেএম মোজিবুল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ, ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পরিচালক অধ্যাপক ড. তানভীর ফেরদৌস সাঈদ।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ আরো বলেন, ‘সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডি ডিগ্রি দেয়ার সুযোগ পাবে না। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও সক্ষমতা থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে এ সুযোগ দেয়া হবে। পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ যাতে না ওঠে, সেজন্য গবেষণার মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়া হবে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই মানসম্মত গবেষণা এবং মানসম্মত গবেষণার মাধ্যমে মানসম্মত পিএইচডি।’

দেশে যোগ্য শিক্ষক ও গবেষকের সংকট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ সংকট কাটাতে পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ট্রাস্টি বোর্ড ও একাডেমিক প্রশাসনকে নিজ নিজ দায়িত্বের সীমারেখা মেনে কাজ করতে হবে। ট্রাস্টি বোর্ড একাডেমিক প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না। বর্তমানে ইউজিসিকে ট্রাস্টি বোর্ডের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের পাশাপাশি ট্রাস্টি বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক প্রশাসনের মধ্যকার বিরোধও সামলাতে হচ্ছে।’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও ভূমিকা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে বলে জানান তিনি। ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে এ ধরনের বিরোধ থাকার কথা নয়।’

অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা বলেন, উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দেশের উন্নয়নে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকদের কাজের স্বীকৃতি তাদের আরো নতুন, সৃজনশীল ও জনকল্যাণমুখী গবেষণায় উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধানে গবেষণার ফলাফল কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

গবেষণা, উদ্ভাবন, জ্ঞানসৃষ্টি, মানসম্মত প্রকাশনা ও একাডেমিক উৎকর্ষে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি দিতে ‘ইউএপি রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করেছে ইউএপি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়জন শিক্ষক-গবেষককে উল্লেখযোগ্য গবেষণা ও প্রকাশনার জন্য পুরস্কৃত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ, ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআরআইডি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আয়োজকরা জানান, গবেষণায় উৎকর্ষের স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার পরিবেশ আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যেও এ পুরস্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে। তাদের মতে, এমন উদ্যোগ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আরো উৎসাহিত করার পাশাপাশি জ্ঞানসৃষ্টি, উদ্ভাবন ও জনকল্যাণমুখী গবেষণায় ইউএপির ভূমিকা আরো জোরালো করবে।

তারা আরো জানান, ইউএপির শিক্ষক-গবেষকদের কয়েকজন বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রথম সারির ও দ্বিতীয় সারির গবেষণা সাময়িকীতে (কিউ১ ও কিউ২) প্রকাশনা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অবস্থান উন্নত করতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমে আরো সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ব্যবহার করা যায়—এমন উদ্ভাবন ও গবেষণাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

আরও