পদ্মা রেল প্রকল্প

ভাঙ্গা-যশোর রুটে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল শুরু

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে যশোরের রূপদিয়া পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। ভাঙ্গা থেকে গতকাল সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে যাত্রা করে পণ্যবাহী একটি ট্রেন পৌনে ২ ঘণ্টায় অর্থাৎ সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে যশোরের রূপদিয়া রেলওয়ে

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে যশোরের রূপদিয়া পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। ভাঙ্গা থেকে গতকাল সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে যাত্রা করে পণ্যবাহী একটি ট্রেন পৌনে ২ ঘণ্টায় অর্থাৎ সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে যশোরের রূপদিয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। ট্রেনটি প্রায় ১০ মিনিট ওই স্টেশনে অবস্থান করে আবার ভাঙ্গার পথে রওনা হয়। একইভাবে দুপুর ১২টার দিকে যাত্রীবাহী একটি ট্রেন ভাঙ্গা থেকে যাত্রা করে। যশোর ঘুরে ফের ভাঙ্গায় ফিরে যায় ট্রেনটি। একই রুটে আজও পরীক্ষামূলক ট্রেন চলবে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পরীক্ষামূলক ট্রেনের চালক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ভাঙ্গা থেকে যশোর অংশের ৮৭ দশমিক ৩২ কিলোমিটার পথ আমরা ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে পাড়ি দিয়েছি। পথে কোথাও কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি।’ 

জানা যায়, ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত ব্রড গেজ এ রেলপথে ভাঙ্গা, কাশিয়ানী ও যশোরের পদ্মবিলা ও সিঙ্গিয়ায় থাকছে রেলওয়ে জংশন। এছাড়া নগরকান্দা, মুকসুদপুর, মহেশপুর, লোহাগড়া, নড়াইল এবং যশোরের জামদিয়া ও রূপদিয়ায় রয়েছে রেলস্টেশন। প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেন জানান, ভাঙ্গা-যশোর অংশের কাজ শেষে চলছে ট্রায়াল রান। এরপর পদ্মা সেতু হয়ে নতুন রুটে সোজা পথে যশোর পর্যন্ত ট্রেন চলবে। নতুন এ রেলপথ চালু হলে যশোর থেকে ঢাকার দূরত্ব কমবে অন্তত ১৯৩ কিলোমিটার। যুক্ত হতে পারবে ট্রান্স-এশিয়ান রেল নেটওয়ার্কে।

ভাঙ্গা-যশোর অংশের ট্র্যাক ইনচার্জ আনোয়ারুল কবির বলেন, ‘নতুন এ ট্র্যাক করা হয়েছে চীনা প্রযুক্তিতে। ব্যবহার করা হয়েছে কংক্রিটের স্লিপার। এটি যেমন টেকসই তেমনি মেইনটেন্যান্স কস্টও অনেক কম হবে।’

দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ (সিআরইসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। মাঠ পর্যায়ে ২০১৯ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা।

যশোর রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান বলেন, ‘পণ্যবাহী ট্রেনটি ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে যশোরে আসে। যাওয়ার সময় আরো বেশি বেগে গেছে। আর যাত্রীবাহী ট্রেনের গতি ১০০-১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পরীক্ষা করা হবে। দুদিনের পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচলের পর আগামী জুন বা জুলাই নাগাদ নতুন এ রুটে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে।’

আরও