বান্দরবানের রুমা রেঞ্জ

অনুমোদন ছাড়াই বনের গাছ কাটছেন বাগান মালিক

পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিবেশের ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় অনুমোদন ছাড়া সব ধরনের গাছ কাটা ও পরিবহন নিষিদ্ধ।

পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিবেশের ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় অনুমোদন ছাড়া সব ধরনের গাছ কাটা ও পরিবহন নিষিদ্ধ। আইন অনুযায়ী বাজারজাত উপযোগী ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগানের গাছ কাটতেও সরকারের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। তবে আইন অমান্য করেই বান্দরবান বন বিভাগের রুমা রেঞ্জে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি বাগানের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। কাটা গাছের কাঠও জব্দ করে বন বিভাগ। তবে বাগানটির বিপুল পরিমাণ কাঠ ছাড় দিয়ে মাত্র ১১ টুকরো ছোট কাঠ জব্দ তালিকায় দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছাড় দেয়া কাঠগুলোর পরিমাণ কম-বেশি তিন শতাধিক ঘনফুট বলে জানা গেছে। ছাড় দেয়া বিভিন্ন আকারের কাঠ কয়েকটি স্থানে বাগানের মধ্যেই গাছের ডাল-পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রুমা রেঞ্জের আওতাভুক্ত খক্ষ্যংঝিরির পূর্ব পাশে তাজুল সওদাগরের ক্রয় করা একটি বাগান রয়েছে। রুমা রেঞ্জ অফিস থেকে বাগানটির দূরত্ব প্রায় ৩০০ মিটার। সম্প্রতি ওই বাগানের একাধিক স্থান থেকে সেগুন গাছ কেটে কাঠের টুকরা করেন তাজুল সওদাগরের ছেলে মো. তারেকুল ইসলাম তারেক। ৩০টির অধিক গাছ কাটার পর বন বিভাগ বাধা দেয়। এতে গাছ কাটা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কেটে রাখা কাঠগুলো থেকে ছোট ছোট ১১টি টুকরো নিয়ে রেঞ্জ অফিস প্রাঙ্গণে রেখে জব্দ দেখানো হয়। কিন্তু বাগানটির কয়েকটি স্থানে ২২-৬০ ইঞ্চি বেড়ের শতাধিক কাঠের টুকরো জব্দ দেখানো হয়নি। কাঠগুলোর পরিমাণ কম-বেশি চার শতাধিক ঘনফুট হতে পারে। এর আগেও খক্ষ্যংঝিরি মসজিদের আশপাশ থেকে তারেক কয়েকটি সেগুন গাছ কেটে কাঠগুলো নিয়ে গেছেন।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘মূলত জোত পারমিটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্যই এভাবে সরকারি, প্রাকৃতিক ও ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগানের কাঠ সংগ্রহ করা হয়, যা স্থানীয়ভাবে আউট কালেকশন নামে পরিচিত। কিন্তু জোত পারমিট অনুমোদন দেয়ার আগে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দেয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক তা অনুমোদন দেন। এরপর বন বিভাগের মাধ্যমে জেলা-উপজেলার পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় বন বিভাগের তদন্ত, মতামত গ্রহণ, পরবর্তী জোত পারমিটের চূড়ান্ত অনুমোদন ও নির্ধারিত বাগানের গাছ কাটা-পরিবহনের পারমিট দেয়া হয়।

এ বিষয়ে মো. তারেকুল ইসলাম তারেক বলেন, ‘রুমা রেঞ্জে আমার বাবার (তাজুল ইসলাম) নামে জোত পারমিট রয়েছে।’ তবে জোত পারমিট বাগানের অবস্থান কোথায় তা জানা নেই জানিয়ে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘খক্ষ্যংঝিরি মসজিদের আশপাশে কয়েকটি গাছের গোড়ায় পচন ধরেছিল। এজন্য দু-তিনটি গাছ কেটেছি। বন বিভাগের জব্দ করার কিছু নেই। এছাড়া খক্ষ্যংঝিরির পূ্র্ব পাশের বাগানের কোনো গাছ কাটা হয়নি।’

তাজুল ইসলামের নামে রুমা রেঞ্জের সেংগুম মৌজায় একটি জোত পারমিট রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরেস্ট রেঞ্জার (এফআর) মো. রিয়াজ রহমান। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘খক্ষ্যংঝিরির পূর্ব পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি বাগানের সেগুন গাছ অবৈধভাবে কাটা হয়েছে। পারমিটের নামে কাটা হচ্ছে দাবি করলেও সম্পৃক্তরা কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি। এজন্য গাছগুলো জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি মামলা করা হয়েছে।’

তবে তাজুল ইসলামের নামে অনুমোদন দেয়া জোত পারমিটে গাছের প্রজাতি ও কাঠের পরিমাণ এবং বাগানের অবস্থান জানাতে পারেননি তিনি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বন বিভাগ বান্দরবানের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘শুরুতে তারা ৩০টি গাছ কাটার অনুমতি চেয়েছিল। বিধি অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। পরে খবর পেলাম, তারা অবৈধভাবে বাগানের গাছ কাটছে। জব্দ করা কাঠসংক্রান্ত বিষয়ে একটি মামলা করা হয়েছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগানের গাছ কাটা ও মজুদ করলে জব্দ করার বিধান নেই। যদি কোনো কাঠ ওই বাগানে মজুদ রাখা হয়, তবে কাঠগুলো পরিবহন করার সময় আটক ও জব্দের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও