৩৬ মণ ওজনের ‘রাজবাড়ীর বস’, দাম ১০ লাখ টাকা

কোরবানির হাট সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামার মালিক ও শ্রমিকরা।

এ বছর রাজবাড়ীর কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বিশাল আকৃতির ‘রাজবাড়ীর বস’। সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার খেয়ে মোটাতাজা হয়েছে বস। ৩৬ মণ ওজনের গরুটি এরই মধ্যে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী শেখ এবারের কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য তার খামারে একটি গরু মোটাতাজা করেছেন। ধবধবে সাদা-কালো রঙ ও বিশাল দেহের হওয়ায় তাকে ‘রাজবাড়ীর বস’ নামে ডাকে অনেকেই। ৩৬ মণ ওজনের গরুটি ১০ লাখ টাকায় বিক্রির আশা করছেন মোহাম্মদ আলী শেখ। প্রতিদিনই বিশাল আকৃতির গরুটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছে দর্শনার্থীরা।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, এমন বড় গরু পালনে ঝুঁকি বেশি। এ ধরনের গরুর ক্ষেত্রে রয়েছে আলাদা ধরনের পরামর্শ। জানা গেছে, তিন বছর ধরে ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটিকে নিজ সন্তানের মতো লালন-পালন করছেন মোহাম্মদ আলী শেখ। নিজ সন্তানের মতো আদর আর ভালোবাসায় যার নাম দিয়েছেন ‘রাজবাড়ীর বস’। গম, ছোলা, চালের গুঁড়া, আলু ও ঘাস খাইয়ে দেশীয় পদ্ধতিতে গরুটিকে লালন-পালন করা হয়েছে।

রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, রাজবাড়ী জেলায় প্রতি বছর ৫৫ হাজার পশু কোরবানি করা হয়। জেলায় এ বছর ৭০ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ১৫ হাজার কোরবানির পশু জেলার বাইরে পাঠানো হবে।

এলাকাবাসী বলছেন, গোখাদ্যের অনেক দাম। খুব কষ্ট করে গরুটিকে তিন বছর ধরে লালন-পালন করে এখন বিক্রিযোগ্য করা হয়েছে। তাই গরুটির ন্যায্যমূল্য দাবি করেন তারা।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুর গ্রামের থ্রি এস এগ্রোর মালিক বজলুর রশিদ স্বপন বলেন, ‘এ বছর খড়, ভুট্টা, ছোলা ও শ্রমিকের মজুরি বেশি। তাই গরুর যত্নে খরচও পড়ছে বেশি। এ অবস্থায় পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গরু আমদানি করা হলে লোকসানে পড়বেন খামারিরা। সেক্ষেত্রে খামারে আগ্রহ হারাবেন তারা।’

রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘এমন বড় গরু পালনে ঝুঁকি বেশি। গরমে যাতে বড় গরুর সমস্যা না হয়, সেজন্য বাড়তি যত্ন নেয়া ও খাবারের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কোরবানির পশুর যত্নে নিয়মিত খামারিদের পরামর্শ প্রদান ও খামার পরিদর্শন করা হচ্ছে। প্রস্তুতকৃত পশু জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হবে।’

আরও