নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিদেশে বাড়ছে রংপুরের আমের চাহিদা

বাংলাদেশের তুলনায় সস্তায় আম রফতানি করে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশ। তাছাড়া সুস্বাদু ও জনপ্রিয় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হাঁড়িভাঙ্গা আম অপেক্ষাকৃত দ্রুতপচনশীল।

বাংলাদেশের তুলনায় সস্তায় আম রফতানি করে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশ। তাছাড়া সুস্বাদু ও জনপ্রিয় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হাঁড়িভাঙ্গা আম অপেক্ষাকৃত দ্রুতপচনশীল। এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রংপুরে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আমের চাহিদা বিদেশে ক্রমেই বাড়ছে। গত বছরের মতো এবারো আম রফতানি শুরু হয়েছে। গত বছর মোট রফতানি হয়েছে ১১৫ টন। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৩৫ টন আম রফতানি হয়েছে। আরো কয়েক মাস এ কার্যক্রম চলবে।

রংপুর জেলায় এবার মোট ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি প্রায় ১ হাজার ৯১৫ হেক্টরে হাঁড়িভাঙ্গা এবং বাকি ১ হাজার ৪৩৫ হেক্টরে অন্যান্য জাতের আমের আবাদ হয়েছে। মিঠাপুকুর উপজেলা ও এর আশপাশের অঞ্চলেই মূলত আমের আবাদ বিস্তৃত হয়েছে। কৃষকরাও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে আম চাষে ঝুঁকছেন। রফতানিযোগ্য আমের বেশির ভাগ বাগানও গড়ে উঠেছে এ অঞ্চলকে কেন্দ্র করেই।

মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইফুল আবেদীন জানান, এখন পর্যন্ত ৩৫ টন আম রফতানি হয়েছে। তবে প্রতিদিনই কমবেশি রফতানি হচ্ছে, যার তথ্য কিছুটা দেরিতে পাওয়া যায়। আগামী কয়েক মাস রফতানি কার্যক্রম চলবে। রফতানির জন্য উপযুক্ত যেসব জাতের আমের বিদেশে চাহিদা রয়েছে, তার মধ্যে গৌড়মতি, কার্টিমন, ব্যানানা ও কিউজাই উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, ‘হাঁড়িভাঙ্গা আম অত্যন্ত সুস্বাদু হলেও এটি দ্রুত পচে যাওয়ায় রফতানিতে নানা বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়। ফলে চাহিদা থাকলেও সীমিত পরিমাণ হাঁড়িভাঙ্গা আমই রফতানি করা সম্ভব হচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, দুই বছর ধরে প্রায় ১০০ জন কৃষককে রফতানিযোগ্য আম বাগান তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ, বিনামূল্যে সার ও বালাইনাশক সরবরাহ করছে কৃষি অফিস। গত বছর রফতানিযোগ্য আম বাগান ছিল ২০০ হেক্টরে; বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০ হেক্টরে।

রফতানিযোগ্য আম বাগানের প্রদর্শনী পাওয়া কৃষকদের একজন হলেন মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের নাসিরাবাদ গ্রামের নুরপুর ব্লকের কৃষক গোলাম আযম। তিনি সরকারি সহযোগিতায় ৫০ শতক জমিতে বাগান শুরু করলেও নিজ উদ্যোগে আরো তিন একর জমিতে ব্যানানা জাতের ২ হাজার ৪০০ গাছের তিনটি বাগান গড়ে তুলেছেন। তিনি জানান, এবার প্রতি কেজি ১৬৫ টাকা দরে প্রায় ৬ লাখ টাকার ব্যানানা আম বিক্রি করেছেন। পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে ৪ লাখ টাকার বাঁধাকপিও বিক্রিও করেছেন।

কয়েক বছর ধরে রংপুরের আম সফলভাবে রফতানি করছে গ্লোবাল ট্রেড লিংক ও গ্রিন গ্লোবাল নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। গ্লোবাল ট্রেড লিংকের সিইও এবং গ্রিন গ্লোবালের প্রোপ্রাইটর কাওসার আহমেদ রুবেল জানান, এবার ইংল্যান্ড, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে প্রায় ২৫ টন আম পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার উপহার হিসেবে হাঁড়িভাঙ্গা আম ভারতে ও কাঠমান্ডুতেও পাঠানো হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় দুই টন।

রুবেল বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আম সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে প্যাকেটিং করে বিমানের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এক কেজি আম রফতানিতে বিমান ভাড়া গুনতে হচ্ছে ৫০০ টাকা। এ কারণে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার মতো দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকতে পারছি না।’

তাছাড়া রংপুর থেকে ঢাকায় আম নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো বিশেষায়িত পরিবহন ব্যবস্থা নেই বলেও জানান তিনি। সরকার ও নীতিনির্ধারকদের প্রতি রফতানি কার্যক্রম সহজ করতে বিমান ভাড়া কমানোর আহ্বান জানান তিনি।

আরও