গুরুতর অপরাধের মূলে মাদক আর জুয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীকে গ্রেফতার, বিচার ও শাস্তি দিলেই অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

দেশে বর্তমানে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের পেছনে মাদকাসক্তি ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীকে গ্রেফতার, বিচার ও শাস্তির পাশাপাশি অপরাধের মূল কারণ চিহ্নিত করে তা মোকাবেলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গতকাল এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবীর মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীকে গ্রেফতার, বিচার ও শাস্তি দিলেই অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধ কেন সংঘটিত হচ্ছে, তার মূল কারণ খুঁজে বের করে তা মোকাবেলা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক গুরুতর অপরাধের পেছনে গবেষণায় মাদকাসক্তি ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।’

মূল কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া গেলে অপরাধের হার কমানো সম্ভব উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুয়া ও মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধও কমানো সম্ভব।’

বর্তমানে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল ও সাইবার স্পেসে অপরাধের বিস্তার বাড়ায় অপরাধ শনাক্তকরণে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা ও তথ্য বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন আগামী দিনে কর্মসূচি পালনের আগে সরকারের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আলোচনা করার প্রস্তাব দেন।

অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়ার এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে শিগগিরই আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট ও ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে আইনও পরিবর্তন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পুরনো আইন দিয়ে নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবেলা সবসময় সম্ভব হয় না। পুরনো আইনের পাশাপাশি সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।’

এক্ষেত্রে অনলাইন ও সাইবার স্পেসে জুয়ার বিস্তারের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন দুর্বল হলে আসামিকে গ্রেফতারের পরও দ্রুত জামিন বা মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই অপরাধের ধরন ও সমাজের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার করা প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে ক্রাইম রিপোর্টারদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সনদ দেয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে রিপোর্টিং ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সনদ দেয়া যায় কিনা সে বিষয়টি যাচাই করে দেখার আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও