স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের পরিদর্শনের পর বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পরিচালিত ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান ‘ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ সিলগালা করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালে প্রায় ২৯ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পড়ে থাকার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গতকাল মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন। দুপুরে খুলনা বিভাগীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা (স্বাস্থ্য) শফিউর রহমান ও বাগেরহাটের সিভিল সার্জন আ স ম মাহবুবুর রহমানকে হাসপাতালে প্রবেশ করেন তিনি। এর আগের দিন আকস্মিক এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
ডা. মোশাররফ হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালটি পরিদর্শন করছেন তিনি। পরির্দশন শেষে বিভাগীয় পরিচালক হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নির্দিষ্ট সময়ে অপসারণ না করার কারণ জানতে চেয়ে তৎকালীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বাগেরহাট জেলা সিভিল সার্জনকে চিঠি দিতে বলেন।
তিনি হাসপাতালের মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডে রোগীদের সেবার গুনগত মান, খাবারের মান, ওষুধপত্র ঠিকমত রোগীরা পাচ্ছেন কিনা এসব বিষয়ে ভর্তি থাকা রোগীদের কাছে গিয়ে খোঁজ খবর নেন।
বিভাগীয় পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনে থাকা প্রায় ২৯ লাখ টাকা মূল্যের ৩০ প্রকারের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যথাযথ প্রক্রিয়ায় অপসারণ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য জেলা সিভিল সার্জনকে বলেন।
একইসঙ্গে মোরেলগঞ্জ হাসপাতালে কর্মরত যেসব কর্মকর্তার সময়ে বিপুল পরিমাণের ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে সেসব কর্মকর্তাকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
পরে বিকালের দিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কামাল হোসেন মুফতির পরিচালিত ‘ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ বন্ধ করার নির্দেশ দেন।
গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। দুই ঘন্টাব্যাপী পরিদর্শনে মন্ত্রী হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান। হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনের বিভিন্ন কক্ষভর্তি সরকারি ঔষধ, স্যালাইন, সুই সিরিঞ্জ ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী দেখতে পান তারা। এমনকি শৌচাগারেও ছিল স্যালাইন ও ঔষধের স্তুপ। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় পরিচালককে নির্দেশনা দেন তিনি।