ঝিনাইদহে সদর উপজেলার পশ্চিম বাংকিরা গ্রামে সেনাবাহিনীর সদস্য সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফ হত্যা মামলায় ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম হাওলাদার।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- বাংকিরা গ্রামের আকিমুল ইসলাম, বোড়াই গ্রামের মিজানুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ভুলতিয়া গ্রামের ডালিম মোল্লা, আসাননগর গ্রামের আব্বাস আলী, কৌদ মাহমুদ গ্রামের কাশেম মণ্ডল, আসাননগর গ্রামের ফারুক হোসেন, বাংকিরা গ্রামের মতিয়ার রহমান ও এনায়েতপুর গ্রামের মোক্তার মোড়ল।
মামলার তিন আসামি পলাতক। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বাকিরা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আহাদুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, নিহত সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ল্যান্স করপোরাল পদে চাকরি করতেন। তার কর্মস্থল ছিল টাঙ্গাইলের ঘাটাইল আর্মি মেডিকেল ট্রেনিং সেন্টারে। ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট রাতে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার আগের দিন ছুটি নিয়ে বাড়ি এসেছিলেন সাইফ। নৌবাহিনীতে কর্মরত তার ছোট ভাই মনিরুল ইসলামও ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন।
আইনজীবী আহাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার রাতে মোটরসাইকেলে করে দুই আত্মীয়কে নিজের বাড়ি নিয়ে আসছিলেন সাইফুল। পথে গাছ পড়ে থাকতে দেখে তারা ডাকাতি হবে বুঝতে পারেন। পরে ডাকাতরা তাদের ঘিরে ধরলে তাদের সঙ্গে সাইফুলদের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ডাকাতরা সাইফুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। তার দুই আত্মীয়ও এ সময় আহত হন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সাইফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই ঘটনায় পরদিন সাইফুলের বাবা হাফিজ উদ্দীন বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নিহত সাইফের স্ত্রী। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ তৌফিক উল্লাহ বলেন, এই মামলার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ছিল না, শোনা সাক্ষীর ওপর ভর করে মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। আমরা ন্যায় বিচারবঞ্চিত হয়েছি। আমরা উচ্চ আদালতে যাব।