মাদারীপুর শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে বরিশাল খাল। মানচিত্রে এটি এখনো শহরের ইটেরপুল থেকে পাথুরিয়ার পাড় পর্যন্ত বিস্তৃত। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রয়োজনে শহর থেকে সরাসরি নৌপথে বরিশাল যাতায়াত করতে হতো স্থানীয়দের। এজন্য খালটির নাম হয় বরিশাল খাল। তবে দখল-দূষণে ভরাট হয়ে গেছে আট কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ খালের বেশির ভাগ অংশ। পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে পানিপ্রবাহ। দীর্ঘদিন চেষ্টার পর জেলা প্রশাসন খালটি দখলমুক্ত করেছে। এবার খননের উদ্যোগ নিয়েছে পৌর ও জেলা প্রশাসন। গতকাল সকালে শহরের ইটেরপুল এলাকা থেকে পৌর কর্তৃপক্ষ খালটির খনন কার্যক্রম শুরু করে।
মাদারীপুর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বেশকিছু খাল অবৈধ দখলের কারণে ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছিল। শহরের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পৌরসভার প্রশাসক ও উপসচিব মো. হাবিবুল আলম বলেন, ‘শহরের ঐতিহ্যবাহী খালগুলো দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে যাওয়ায় পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছিল। আমরা খালগুলো উদ্ধার করে পুনরায় খনন করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। পর্যায়ক্রমে শহরের সবক’টি খাল উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
মাদারীপুর পৌর সভার সচিব খন্দকার ফিরোজ আহমেদ ইলিয়াস জানান, খালগুলো থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে এবং জনগণকে খাল ও জলাশয় রক্ষায় সচেতন করা হচ্ছে।’
মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল খালটি খননের। প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ এটি এখন উদ্ধার করে খনন করছে। খালে পানিপ্রবাহ ফিরলে শত শত বিঘা জমিতে আবারো চাষাবাদ হবে, যা আমাদের কৃষি অর্থনীতি আরো সচল করবে।’