স্বাস্থ্যসেবা
নিশ্চিত করতে ১৯৮০ সালে সাতক্ষীরায় নির্মাণ করা হয় ৫০ শয্যার
সদর হাসপাতাল। শুরু থেকে রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় ২০১০ সালে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে সে অনুপাতে বাড়েনি
জনবল। বছরের পর বছর নয়টি
গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসকের পদ রয়েছে শূন্য।
নার্সসহ অন্যান্য জনবল সংকটে প্রত্যাশিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ
রোগীদের।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাতটি উপজেলার কমপক্ষে ২২ লাখ মানুষের একটি বড় অংশ চিকিৎসা নিতে আসে এ হাসপাতালে। জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, শূন্যপদের অনুকূলে জনবল চেয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে তাতে কোনো লাভ হয়নি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়সাল আহমেদ জানান, হাসপাতালে ২৭ জন চিকিৎসকের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নয়টি পদ শূন্য রয়েছে দুই থেকে আড়াই বছর ধরে। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্ট সার্জারি, মেডিসিন, গাইনি, চক্ষু, অ্যানেস্থেসিয়া, জুনিয়র কনসালট্যান্ট সার্জারি, মেডিকেল অফিসার ও রেডিওলজিস্ট। এছাড়া চারজন সিনিয়র নার্সের পদও শূন্য রয়েছে। হাসাপাতালের অন্যান্য কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে ১৯টি। এর মধ্যে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ১৩টি এবং চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর ছয়টি পদ শূন্য রয়েছে।
ডাক্তার ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘চিকিৎসকসহ এসব শূন্যপদে জনবল চেয়ে সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো জনবল পাওয়া যায়নি।’
সেবাপ্রত্যাশীরা বলছেন, সরকারি খরচে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে অনেকে ক্লিনিকমুখী হচ্ছেন। এতে তাদের চিকিৎসা ব্যয়ও বাড়ছে।
আশাশুনি উপজেলার নাকতাড়া গ্রামের জবেদ আলী মোড়ল (৬৫) সদর হাসপাতালে এসেছিলেন চোখের চিকিৎসা নিতে। তিনি বলেন, ‘৫০-৫৫ মাইল পথ অতিক্রম করে সদর হাসপাতালে এসেই জানতে পারলাম এখানে চক্ষু চিকিৎসক নেই। বাড়ি থেকে জেলা সদরে আশা-যাওয়া খরচ কমপক্ষে ৩৫০-৪০০ টাকা। ব্যয়টাই বৃথা গেল। বেসরকারি কোনো ক্লিনিক বা হাসপাতালে চক্ষু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই আমার। তাই চিকিৎসা না করেই বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে।’
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শূন্যপদে নয়জন চিকিৎসক, চারজন নার্স এবং অন্যান্য পদে জনবল চেয়ে একাধিকবার স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালকের দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাতে কোনো লাভ হয়নি। নিয়মিত শতাধিক ভর্তি রোগীসহ বহির্বিভাগে প্রচুর রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। চিকিৎসকস্বল্পতার কারণে প্রয়োজনীয় সেবা দেয়া সম্ভব হয় না। তার পরও চেষ্টা করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষ যেন চিকিৎসা নিতে এসে ফিরে না যায়।’
চিকিৎসকসহ অন্যান্য জনবল নিয়োগের ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তিনি চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেজুতি। তিনি বলেন, ‘সদর হাসাপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নারীরা দুর্ভোগে পড়ছে।’
সদর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফুজ্জামান আশু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল জনবল সংকট বেশি। জরুরিভাবে জনবল নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে। এর পরও যে পরিমাণ চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল রয়েছে, তারা যেন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’