বিভিন্ন কারণেই ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন না সাতক্ষীরার কৃষক। খাদ্যশস্যটির আবাদ বাড়াতে চলতি মৌসুমে ৮৭ লাখ ৩ হাজার ৪০০ টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য আবাদ বাড়েনি। এ বছর ২৭২ হেক্টর জমিতে ফসলটি আবাদ হয়েছে। কৃষক বলছেন, ভুট্টা মাড়াইয়ের জন্য আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি নেই। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে বাজার ব্যবস্থাপনা তৈরি না হওয়ায় এ ফসল চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা। উৎপাদিত ভুট্টা বিক্রিতেও সৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা। কখনো কখনো হয়রানির শিকারও হতে হয়। সব মিলিয়ে কৃষক অন্যান্য ফসলের প্রতি আগ্রহ দেখালেও ভুট্টা চাষে তেমন সাড়া দেন না।
সদর উপজেলার মিয়াসাহেবের ডাঙ্গী গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে আবাদ করে ৪৫ মণ ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু বিক্রি করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। স্থানীয়ভাবে যৎসামান্য উৎপাদন হওয়ায় এখানে ভুট্টার বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। এজন্য ন্যায্য দামও পাওয়া যায়নি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলার সাত উপজেলায় ২৭২ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ হয়েছে। ফলন পাওয়া গেছে ২ হাজার ২৫০ টন। ভুট্টা চাষ বাড়াতে ৬৪০ জন চাষীকে প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেয়া হয়েছে। আর্থিক হিসাবে এর পরিমাণ ৮৭ লাখ ৩ হাজার ৪০০ টাকা।’
প্রণোদনা দিয়েও উল্লেখযোগ্য আবাদ বাড়ছে না কেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ক্রমান্বয়ে বাড়বে। গত বছর যেখানে আবাদ হয়েছিল ২৪৪ হেক্টর জমিতে, সেখানে চলতি মৌসুমে ২৭২ হেক্টরে আবাদ হয়েছে। আবাদি জমির পরিমাণ ২৮ হেক্টর বেড়েছে। আগামীতে আরো বাড়বে।’
তবে ভুট্টা চাষ বাড়ার এ ধারাকে সামান্য হিসেবেই দেখছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, মাছ ও গো-খাদ্য হিসেবে কেবল ভুট্টা বিক্রি হয় সাতক্ষীরায়। জেলায় বছরে প্রায় পাঁচ-সাড়ে পাঁচ হাজার টন ভুট্টার চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে চলতি বছর উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ২৫০ টন। বাকিটা আমদানি করতে হয়েছে।
সাতক্ষীরার সুলতানপুরের ভুট্টা মাড়াই মিল মেসার্স ক্যাফে ফ্লাওয়ারের স্বত্বাধিকারী মোজাম্মেল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে যে ভুট্টা উৎপাদন হয়, এর গুণগত মান খুব ভালো হয় না। খেত থেকে সংগ্রহের পর মেশিনের সাহায্যে মোচা থেকে ভুট্টা ছাড়াতে হয়। সাতক্ষীরায় ভুট্টা মাড়াইয়ের জন্য আধুনিক যন্ত্র না থাকায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা কোনো রকম হাত দিয়ে ভুট্টা ছাড়ায়, যার একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়। এতে মান যেমন ভালো হয় না, তেমন শুকানো হয় কম। ফলে অন্যান্য এলাকার তুলনায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ভুট্টার দাম কেজিতে ৫-৬ টাকা কম থাকে। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষক ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কম।’