গতকাল সকালে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, বিচারপতি নিয়োগ, গুম প্রতিরোধ কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ মোট ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই আইনে পরিণত না করে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের জন্য রেখে দেয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি ‘পেছনে হাঁটার ইঙ্গিত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সম্পর্কিত তিনটি অধ্যাদেশ রহিতকরণের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে একেবারেই বাতিলের কাতারে ফেলে দেয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ বাতিল করা হচ্ছে, কিছু স্থগিত রাখা হচ্ছে এবং কিছু দুর্বল আকারে আইনে পরিণত করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ—এ তিনটি ক্ষেত্র একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। এ ক্ষেত্রগুলোয় কোনো ধরনের আপস বা দুর্বলতা গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি বলেন, ‘১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি আইনে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও এর বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ বাতিল বা আইনে পরিণত না করার সিদ্ধান্ত উদ্বেগজনক। এর মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ এবং পৃথক সচিবালয়-সংক্রান্ত তিনটিসহ মোট চারটি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে সংসদের বিশেষ কমিটি—যেটি আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
তিনি বলেন, ‘৯৮টি অধ্যাদেশের সবই দুর্বলতামুক্ত নয়। সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ, স্থানীয় সরকার-সংক্রান্ত সংশোধনী এবং অন্যান্য কিছু অধ্যাদেশ উল্লেখযোগ্য। আমরা একটু উল্লেখ করব, যার মধ্যে এমনও আছে—কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্বল করা হয়েছে। যেটি নিয়ে আমরা সরকারের প্রচণ্ড সমালোচনা করেছি—আপনারা সেটি জানেন, তাদের মনে আছে।’
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুদক, গুম প্রতিরোধসহ জনগুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি অধ্যাদেশসহ মোট ১৬টি এখনই আইনে পরিণত না করে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের জন্য রেখে দেয়া হয়েছে।’
টিআইবির মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তে সরকারের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করার ধারা আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এটি অগ্রহণযোগ্য ও ধিক্কারযোগ্য।’ এছাড়া পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশকে রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্ত ও জুলাই সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে বাতিলের দাবি জানায় টিআইবি। টিআইবি আশঙ্কা করছে, এসব সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল তা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, সরকার সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে, যা আত্মঘাতী ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য বড় ধাক্কা।