চাকরি স্থায়ীকরণে ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের নারীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে অবিলম্বে প্রধান উপদেষ্টাকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
রাজস্ব খাতে চাকরি স্থায়ীকরণ ও পাওনা টাকার দাবিতে ২০ দিন ধরে ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের নারীরা রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করছেন। সোমবার (১৬ জুন) দুপুরে প্রেসক্লাবের সামনে তথ্য আপাদের দাবির প্রতি সংহতি জানাতে আসেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা দিদারুল ভূঁইয়া।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে নতুন করে কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিয়োগ বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায়শই নিয়োগ বাণিজ্যের সম্পর্ক থাকে, আর এ কারণেই অনেকে সবকিছু নতুন করে শুরু করতে চায়। নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে ট্যাগ দিয়ে চিহ্নিত করে তাদের ক্ষেত্রে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়া অযৌক্তিক। যারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন এবং কোনো প্রকার সুপারিশ ছাড়াই কাজ করছেন, তাদেরই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ দেয়া উচিত। কেবল আওয়ামী লীগের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে যদি সবকিছু বাতিল করা হয়, তাহলে তো সব সরকারি কার্যক্রমই বন্ধ করে দিতে হবে, যা বাস্তবে হচ্ছে না। দুই-একদিনের মধ্যেই প্রধান উপদেষ্টাকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহবান জানাচ্ছি।’
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘তথ্য আপাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সরকারের নির্লিপ্ততা অস্বাভাবিক সংস্কৃতির চিত্র। সারা দেশ থেকে তথ্য আপা প্রকল্পের নারী কর্মীরা ঢাকায় এসে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন, কিন্তু সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে কোনো সাড়া মিলছে না। সরকারের উচিত ছিল তাদের কাছে এসে কথা শোনা এবং তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করা। আজকে যদি এ নারীরা একত্রিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাড়ি ঘেরাও করতেন, তাহলে সারা দেশ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কাভারেজ দিত। আন্দোলনকারীরা যদি উপদেষ্টাদের দিকে পানির বোতল ছুঁড়ে মারতেন, তাহলে তাদের দাবি আদায় হয়ে যেত। কেন এমন সংস্কৃতি? সরকারের ভুল কার্যক্রমের কারণেই রাজপথে অবরোধের মতো ঘটনা ঘটছে। সরকারের উচিত, যেখান থেকেই দাবি উত্থাপিত হোক না কেন, সেখানে গিয়ে জনগণের কথা শোনা।’
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অর্থনৈতিক সমন্বয়ক দিদারুল ভূঁইয়া বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের বাংলাদেশে এখনো বৈষম্য বিভিন্ন রূপে ফিরে আসছে, যা জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে। চাকরির ক্ষেত্রে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতেই আমাদের জুলাই অভ্যুথান হয়েছে। এখন আমরা সেটার উল্টোটা দেখছি। বর্তমান সরকার একটাও কর্মসংস্থান তৈরি করতে পেরেছে, এরকম কোনো তথ্য আমাদের কাছে নাই। বরং আমরা দেখছি বেকারত্ব আরো বেড়েছে। তথ্য আপার মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নিয়ে সরকারের অবস্থান কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য না।’
ফেনী জেলার ফুলগাজী থেকে আসা তথ্যসেবা কর্মকর্তা সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘চাকরির চুক্তিতেই বলা হয়েছিল, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে আমাদের চাকরি রাজস্ব খাতে নেয়া হবে। কিন্তু সেটি এখনো হয়নি। সব রকম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে আমরা চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছি। আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এখন অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে “তথ্য আপা” প্রকল্পের তৃতীয় ফেজে নতুন করে লোক নিয়োগের কথা শুনতে পাচ্ছি।’ নিয়োগ বাণিজ্য করতেই সরকারের এমন আয়োজন বলে জানান এই আন্দোলনকারী।