মানসম্মত উচ্চ শিক্ষার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ঘাটতি থেকে গেলে স্নাতকের চার বছরে সেটি পূরণ করা কঠিন। আমাদের শিক্ষা খাতে যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ হতে কতদিন লাগবে তা বলা কঠিন। উচ্চ শিক্ষাকে যদি আন্তর্জাতিকমানের করতে চাই তাহলে আমাদের দুটি বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। প্রথমত, মানসম্মত শিক্ষার্থী এবং দ্বিতীয়ত, মানসম্মত শিক্ষক। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষক হিসেবে যারা আছেন তারা অত্যন্ত আন্তরিক এবং চেষ্টা করছেন ভালো করার। তবে আমাদের পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষকের সংকট। এছাড়া আমাদের দেশে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে। যেমন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করতে পারলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে সে অনুমতি নেই। অথচ আমাদের দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণায় ভালো করছে, কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চিত করছে। সরকারি-বেসরকারির এ বৈষম্য দূর করা উচিত। সরকারি-বেসরকারি বিবেচনা না করে বরং কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা কেমন, সেটি বিবেচনা করে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের অনুমতি দেয়া উচিত। বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণকারী এমন অনেকে আছেন যারা দেশে ফিরতে আগ্রহী। কিন্তু এ শিক্ষকদের যে পরিমাণ বেতন দিতে হবে তা বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বহন করা কঠিন। এক্ষেত্রে সরকার যদি সরকারি-বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়কে সহযোগিতা করে, তাহলে ভালো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া সহজ হবে। সর্বোপরি আমার সবার প্রতি আহ্বান থাকবে, আসুন আমরা পাবলিক-প্রাইভেট বিভেদ ভুলে যাই, বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের শিক্ষার মান দিয়ে বিবেচনা করি।
—ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া, উপাচার্য, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি