ভাষাসৈনিক এম শামসুল হকের গৌরবদীপ্ত অবদানের স্বীকৃতি

ভাষা আন্দোলনে গৌরবদীপ্ত অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ময়মনসিংহের কৃতী সন্তান ভাষাসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান সাবেক সংসদ সদস্য এম শামসুল হককে ২০২১ সালের অমর একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়েছে।

ভাষা আন্দোলনে গৌরবদীপ্ত অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ময়মনসিংহের কৃতী সন্তান ভাষাসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান সাবেক সংসদ সদস্য এম শামসুল হককে ২০২১ সালের অমর একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়েছে। শনিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক এমপি ভাষা আন্দোলনে এম শামসুল হকের গৌরবদীপ্ত অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তার সুযোগ্য সন্তান গৃহায়ন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপির হাতে ২০২১ সালের একুশে পদক তুলে দেন।

ফুলপুর-তারাকান্দার সিংহপুরুষ পাঁচবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, ভাষাসৈনিক মরহুম শামসুল হক ১৯৩০ সালের ২৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কামারিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ শহরে মিছিল শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ওই মিছিলে শামসুল হকের পাশে থাকা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু অমলেন্দু বাবু পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। পরে ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ শহরে বিশাল মিছিল নিয়ে বের হওয়ায় তত্কালীন পাকিস্তান সরকারের পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন এবং কারাবরণ করেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে মিছিল-মিটিং, পথসভা, পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণসহ নানামুখী আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। ভাষাসৈনিক শামসুল হক কখনো হেঁটে, সাইকেলে চড়ে, কখনো বা গরুর গাড়িতে চড়ে অতি কষ্টে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভাষা আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ময়মনসিংহে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণে ভাষাসৈনিক শামসুল হক সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারণা এবং ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট বাতিলের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ঐতিহাসিক ১১ দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময় বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের মার্চ সকাল ১০টায় ময়মনসিংহের টাউন হল চত্বরে পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানো এবং বাংলাদেশের নকশা খচিত পতাকা উত্তোলন আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭৩ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালের (১৫ আগস্ট) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা ময়মনসিংহের জেলা আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ১৯৭০, ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১ ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য এবং ১৯৮৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফুলপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে পাট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগ ময়মনসিংহ জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেন। তিনি বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ক্রীড়া সংগঠনের সংগঠকের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।

আরও