মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

বছরে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়তে হবে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘প্রতি বর্ষা মৌসুমে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

বছরে একটি করে গাছ লাগালে গাছ যেমন বড় হবে, তেমনি তোমরাও বড় হবে। একসময় সেই গাছকে নিজের বন্ধুর মতো মনে হবে।’

গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ স্লোগানে একযোগে দেশের ২৯ হাজারের বেশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বৃক্ষরোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবারের নতুন কোনো ভাই বা বোন জন্ম নিলে তাদের নামে একটি গাছ রোপণ করা যেতে পারে। এতে সন্তান যেমন বেড়ে উঠবে, গাছটিও তেমনি বড় হবে।’

প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে নিমগাছ রোপণের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে নিমগাছের চারা পাঠানো হয়েছিল। পরে সেসব চারা থেকে বিপুলসংখ্যক নিমগাছ রোপণ করা হয়, যা বর্তমানে আরাফাতের ময়দানে ছায়া দিচ্ছে।’

এদিকে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সারা দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ জাতীয় প্রদর্শনী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের সব আয়োজন তোমাদের ঘিরে। কারণ, আমরা এখন আছি, পরে থাকব না। কিন্তু তোমরা থাকবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব তোমরা দেবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকটি কাজের আউটপুট থাকতে হবে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে অন্য সব দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। এ ধরনের আয়োজনের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে ১২ জুন সারা দেশে শুরু হয় ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচি উপজেলা-থানা, জেলা এবং জাতীয়—এ তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিটি ধাপের বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।

বিজয়ী শিক্ষার্থীদের প্রত্যেক দলকে ২০ হাজার টাকার চেক, পদক ও সনদপত্র এবং বিজয়ী শিক্ষকদের ৩০ হাজার টাকার চেক ও সনদপত্র প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

সংসদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। গতকাল জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের দুপুরের বিরতিতে অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষার্থীদের তিনি এ কথা বলেন। মাদারীপুর জেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন শিক্ষার্থী বাজেট অধিবেশন দেখতে আসে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং অন্যান্য সৃজনশীল কার্যক্রমে যুক্ত থাকার পরামর্শ দেন।

মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়ার উদ্যোগে তার নির্বাচনী এলাকার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা বাজেট অধিবেশন দেখতে আসে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ডোনাভান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও টেকেরহাট পপুলার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে স্মরণীয় এ অভিজ্ঞতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানায়। অধিবেশন দেখার পাশাপাশি তারা সংসদ ভবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করে সংসদের ইতিহাস, স্থাপত্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভ করে।

আরও