ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) সামনের সড়কে গাড়ির ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ছয়জন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এবং একজন ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের ছেলে সাদমান সাকিব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। গাড়ি চালানো শেখার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেন সাদমান। দুর্ঘটনার পর উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সাদমান সাকিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে তেমন গাড়ি চালানো হয় নি। আজ শখের বশে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলাম। আমার সঙ্গে চালকও ছিলেন। কলা ভবন এলাকায় এক চক্কর দিয়ে এফবিএসের সামনে আসার সময় বেশি মানুষ দেখে ভয় পেয়ে যাই। এ সময় ব্রেক করতে গিয়ে ভুল করে এক্সেলারেটরে চাপ দিই। এতে গাড়িটি দ্রুতগতিতে ছুটতে শুরু করে এবং সামনে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেয়। পরে চালকের সহায়তায় গাড়িটির গতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
দুর্ঘটনার আগে গাড়িটিকে অস্বাভাবিক গতিতে চলতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিনহা মল্লিক। তিনি বলেন, বেলা সাড়ে ১০টার দিকে সাইকেল নিয়ে এফবিএস সড়কে ওঠার সময় গাড়িটি তাকে অস্বাভাবিকভাবে ওভারটেক করে। এ সময় সামনে থাকা রিকশা ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জোরে হর্ন দেয়া হচ্ছিল। তার ধারণা, গাড়িটি এর আগেও একবার ওই পথে ঘুরেছিল। পরবর্তী চক্করে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আহত ছয় শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ৩২তম ব্যাচের। তাদের হাত, পা, হাঁটু ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে। কয়েকজনের ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ হয়েছে। অন্যদিকে, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়ার পা ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মুসফিকুল ইসলাম জানান, আহতদের মধ্যে একজনের মুখ থেকে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাকে সবচেয়ে গুরুতর অবস্থায় দেখা গেছে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর জরুরি চিকিৎসা দেয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন আতঙ্কিত হয়ে পড়লে অক্সিজেন দেয়া হয়। অন্যদের ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। হাড়ে ভাঙন রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে এক্স-রে পরীক্ষার প্রয়োজন বলে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল রতন বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে এবং তাদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে।