ফলন, বাজার চাহিদা ও দাম ভালো হওয়ায় দেশের কৃষকও স্ট্রবেরি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। একসময় নির্দিষ্ট কিছু বাগানে সীমিত পরিমাণে ফলটির আবাদ দেখা গেলেও বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে চাষ হচ্ছে। এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্ট্রবেরির উচ্চ ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত জাতের চারার কারণে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি জমিতে উচ্চমূল্যের এ ফলের আবাদ হয়েছে। যদিও প্রত্যাশিত দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষীরা। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, মৌসুমে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার স্ট্রবেরি বেচাকেনা হবে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, শীতপ্রধান দেশের ফল হলেও বাংলাদেশের অনেক জায়গায় স্ট্রবেরি চাষ হচ্ছে। আকর্ষণীয় বর্ণ, গন্ধ, স্বাদ ও উচ্চ পুষ্টিমানের জন্য স্ট্রবেরি অত্যন্ত সমাদৃত। ফল হিসেবে সরাসরি খাওয়া ছাড়াও বিভিন্ন খাদ্যের সৌন্দর্য ও সুগন্ধ বৃদ্ধিতেও ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে এ ফল। অল্প পুঁজি, স্বল্প শ্রম, কিন্তু লাভ অনেক বেশি। তাই এ ফল চাষে অল্প দিনেই সফলতার মুখ দেখেছেন এ উপজেলার অনেক কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১০০ হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ হলেও ২০২৪ সালে তা কমে ৮২ হেক্টরে নেমে আসে। তবে চলতি বছর আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৫ হেক্টরে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলায়। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১৩ টন করে স্ট্রবেরি উৎপাদন হয়। সে হিসাবে জেলায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৯৫ টন। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি স্ট্রবেরি ৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ দাম বজায় থাকলে মৌসুম শেষে মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৭৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
স্ট্রবেরি চাষী আব্দুল মালেক বলেন, ‘স্ট্রবেরি বেশি সময় সংরক্ষণ করা যায় না। হিমায়িত করার ব্যবস্থাও নেই বলে বাধ্য হয়েই কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পরিবহন ব্যয়ও কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাঁচ কেজির একটি কার্টন ঢাকা বা দূরবর্তী জেলায় পাঠাতে অন্তত ৬০ টাকা খরচ হচ্ছে। প্রতিদিন একজন চাষী গড়ে ১০০-১৩০ কেজি পর্যন্ত স্ট্রবেরি পরিবহন করেন। ফলে খরচও বেড়ে যাচ্ছে।’
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, ‘এবার স্ট্রবেরির আবাদ ও উৎপাদন দুটোই বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে প্রতি হেক্টরে প্রায় ১৩ টন ফলন পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় ৭৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে।’
জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম জানান, চাষীরা আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানালে দ্রুত পরিবহন ও বাজারজাত সুবিধা নিশ্চিতের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।