বেশ কয়েক বছর ধরেই দেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে আমরা একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কেমন দেখছেন?
ইতিবাচকভাবেই দেখছি। আমাদের এ রূপান্তরটা দরকার ছিল, দেশের জন্য হোক বা পেশার জন্য হোক। আইসিএবিতেও একটা রূপান্তর হয়েছে। আমাদের ভূমিকা আরো বিস্তৃত হচ্ছে। কারণ বর্তমানে সব ধরনের ব্যবসার ক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। যেকোনো কিছুতেই এখন টেকসই ইস্যুটিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এ পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে আমাদেরও মানিয়ে নিতে হবে। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।
আর্থিক খাতের বিভিন্ন কেলেঙ্কারির ঘটনায় নিরীক্ষকদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে। এমন পরিস্থিতি কেন হলো?
নিরীক্ষকদের যে দায়িত্ব ছিল সেটি অনেক ক্ষেত্রে যথাযথভাবে পালন করা হয়নি, সেটি স্বীকার করছি। সুনির্দিষ্ট কিছু দায়িত্ব ছিল যেগুলো আমরা আশানুরূপভাবে করতে পারিনি। তবে পুরো ইকোসিস্টেমটাকে দেখতে হবে। এখানে নিরীক্ষকের ভূমিকা আছে, কিন্তু সেটি শেষের দিকে। ব্যাংক ও বেশকিছু বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যে ঘটনাগুলো রয়েছে সেখানে প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থারও বড় ধরনের দায় রয়েছে। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার যে ভূমিকা ছিল সেখানে বড় ধরনের ব্যত্যয় হয়েছে। ব্যাংক খাতের কথাই যদি বলি এখানে এত ধরনের নিয়মকানুন রয়েছে যে সেগুলো পরিপালন করা হলে এ ধরনের ঘটনা হওয়ার কথা না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাতেই এগুলো ধরা পড়ার কথা। নিরীক্ষকের দায়ের বিষয়টি একেবারে শেষ পর্যায়ে আসে। আমরা আন্তর্জাতিক হিসাব মান অনুসরণ করে নিরীক্ষা করে থাকি। এক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠানের পুরো বছরের আর্থিক লেনদেনের মধ্য থেকে নমুনার ভিত্তিতে যাচাই করে নিরীক্ষক প্রত্যয়ন করে থাকেন। এর মধ্যে নিরীক্ষকের ভুল থাকতে পারে আমি একমত। নিরীক্ষকের কাজের ক্ষেত্রে যদি আমরা কোনো গাফিলতি পাই তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। গত ১০ বছরে আমরা ১৫০ জনের বেশি নিরীক্ষককে শাস্তির আওতায় এনেছি। আমরা নিয়মিতভাবে সব নিরীক্ষকের কার্যক্রম নজরদারি করছি।
আপনি ইকোসিস্টেমের কথা বলছিলেন। ব্যাংকের ক্ষেত্রে ত্রিপক্ষীয় সভার বিষয়টি বেশ পরিচিত। এর মাধ্যমে অনেক কিছু আপস করা হয়েছে বলে শোনা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাই।
এটি ভালো কোনো চর্চা নয়। এ ধরনের সভা আগেও হয়েছে, এখনো হয়। সুনির্দিষ্টভাবে যদি খেলাপি ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণের কথা বলি, আন্তর্জাতিক হিসাব মানে সুনির্দিষ্ট করে বলা আছে কীভাবে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে, পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিমালায়ও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ কোনো ব্যাংকের নিরীক্ষার পর দেখা গেলে যে ১০ হাজার কোটি টাকার সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে। কিন্তু ত্রিপক্ষীয় সভায় যখন বিষয়টি আসে তখন দেখা গেলে যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে চাপ দেয়া হয় যে ১০ হাজার কোটি টাকার সঞ্চিতি সংরক্ষণ করা যাবে না, তাহলে সে ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে পারবে না এবং মুনাফা ঋণাত্মক হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের স্বার্থের বিষয় থাকে। কারণ এর ফলে তারা বেশি বোনাস ও লভ্যাংশ পাবেন। এজন্য তখন সঞ্চিতি সংরক্ষণ কম করা হয়। এমনও ঘটনা হয়েছে ত্রিপক্ষীয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে ৫ হাজার কোটি টাকার সঞ্চিতি সংরক্ষণ করা হবে, কিন্তু পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ফোন করে বলা হয়েছে, এটি দেড় হাজার কোটি টাকা করতে হবে। তবে বর্তমানে ত্রিপক্ষীয় সভায় আগের মতো নিরীক্ষকের ওপর চাপ দেয়া হয় না। নিরীক্ষকের স্বাধীনতার ওপর যখনই আপনি হস্তক্ষেপ করবেন তখন এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, হয়েছেও তাই। এখন নিরীক্ষকেরা নিরীক্ষার সময় সঠিক তথ্য নিয়ে আসতে পারছেন।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক হিসাবমান অনুসরণে যেসব ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখানো হয়েছে, এর ফলে বৈশ্বিকভাবে আমাদের আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি?
অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেউ যদি বিদেশে কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে চায় তাহলে অবশ্যই সেখানকার নিরীক্ষকের মাধ্যমে তারা আর্থিক প্রতিবেদন যাচাই করে দেখবে।
আইএমএফের শর্তের কারণে দেশের ব্যাংক খাতে আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে ব্যাংক খাতের সম্পদের মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার কাছ থেকে জানতে চাই।
এটি একটি ভালো সিদ্ধান্ত। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে বলে আসছিলাম। আমার ব্যক্তিগত মত, এটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করা উচিত। হয়তো আমরা প্রাথমিক ধাক্কাটা নিয়ে নিলাম, তার পর থেকে সম্পদের প্রকৃত মান মূল্যায়ন করতে পারব। শুধু আইএমএফ কিংবা বিশ্বব্যাংক চাপ দিচ্ছে বলেই নয়, এটি আমাদের আরো অনেক আগেই করা উচিত ছিল। এর বাস্তবায়ন কীভাবে এগিয়ে নেয়া যায় সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইসিএবি যৌথভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি ব্যাংক ও করপোরেট খাতে ইএসজি (পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসন) প্রতিবেদন নিশ্চিত করার বিষয়টি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশেও কি এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ ধরনের বাধা এসেছে, নাকি এটি শুধু আমাদের এখানেই দেখা যায়?
ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা কিন্তু আন্তর্জাতিক হিসাবমান বাস্তবায়ন, নিরীক্ষার গুণগত মান, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা ও আইনি দিক দিয়ে আমাদের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে। আমাদের এখানে অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে অনেক কিছুই বাস্তবায়নে বাধা তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে অনেক সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থা তার ভূমিকা পালন করতে পারেনি। সেটি থেকে আমরা বর্তমানে বের হয়ে এসেছি।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আবেদন করা কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে যাতে বিতর্ক তৈরি না হয় সেজন্য আইসিএবির দিক থেকে কোনো উদ্যোগ রয়েছে কি?
আমরা এরই মধ্যে এ বিষয়ে কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। নিরীক্ষক ও নিরীক্ষার গুণগত মানের বিষয়ে আমরা কঠোরভাবে পর্যালোচনা করছি। এক্ষেত্রে জনস্বার্থ সংস্থাগুলো যার মধ্যে ব্যাংক ও তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় থাকা কোম্পানিও রয়েছে, সেগুলোর নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা খুব দ্রুত খাতভিত্তিক আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা শুরু করব। নিরীক্ষক সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে কিনা সেটি আমরা দেখব। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর রিপোর্টিংয়ের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এক্সবিআরএল নামে একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছে, এর সঙ্গে আমরাও কাজ করছি। তাছাড়া করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড আরো উন্নত করার জন্য বিএসইসি উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গেও কাজ করছি। ভুয়া আর্থিক প্রতিবেদন বন্ধ করতে আমরা ডকুমেন্টস ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস) চালু করেছি।
ডিভিএস প্লাটফর্মকে আরো সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে নিরীক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর সুযোগ আছে কি?
আমাদের একটি টাস্কফোর্স এরই মধ্যে এ বিষয়ে কাজ করছে। এ টাস্কফোর্সের সঙ্গে এনবিআরও সম্পৃক্ত হয়েছে। এনবিআর চাইছে করপোরেট ট্যাক্স রিটার্নকেও পুরোপুরি অটোমেটেড করা। করপোরেট রিটার্নের ক্ষেত্রে প্রথম ডকুমেন্টস হচ্ছে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, যেখান থেকে তথ্য নিয়ে রিটার্ন পূরণ করা হবে। বর্তমানে পুরো আর্থিক প্রতিবেদন ডিভিএসে থাকে না, বরং চার-পাঁচ ধরনের দেয়া থাকে। আমরা পুরো আর্থিক প্রতিবেদন যাতে ডিভিএসে যুক্ত করা যায় সেজন্য কাজ করছি। এর বাইরে আমরা পেশাদার নিরীক্ষকদের বেশকিছু দায়বদ্ধতার বিষয়টিও ডিভিএসে সংযুক্ত করার চেষ্টা করছি।
প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি কার্যকর সংস্থা হয়ে উঠতে পারেনি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। এ বিষয়ে আপনাদের মূল্যায়ন কী?
এটি কিছুটা দুঃখজনক যে প্রায় ১০ বছর হয়ে গেলেও এফআরসি এখনো সে জায়গায় দাঁড়াতে পারেনি। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষাচর্চার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে এফআরসিকে প্রতিষ্ঠা করা হলেও সেটি হয়নি।
গত এক-দেড় বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে ব্যাংক খাতে যেসব বিশেষ নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেটি তো এফআরসির করার কথা।
জনস্বার্থ সংস্থা হিসেবে ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার আইনি ক্ষমতা রয়েছে এফআরসির। জনস্বার্থ সংস্থাগুলোর সংখ্যা বেশ বড়। নিরীক্ষা ও নিরীক্ষকদের গুণগত মান নিয়ে আইসিএবি অনেক কাজ করছে। কিন্তু করপোরেটগুলোর বিষয়ে কিছু বলার আইনি ক্ষমতা আমাদের নেই। এ দায়িত্ব পুরোপুরি এফআরসির। আমি মনে করি করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনের বিষয়ে এফআরসির পুরোপুরি মনোযোগ দেয়া উচিত। এ বিষয়ে আমি আপনার সঙ্গে একমত যে যদি এফআরসি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারত তাহলে হয়তো অনেক জায়গায় যেসব ব্যর্থতার ঘটনা দেখেছি সেগুলো দেখা যেত না। আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে সিএফওদের হুইসেলব্লোয়িং নীতি থাকতে হবে এবং তাদের চাকরির নিরাপত্তা দিতে হবে। সিএফওদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হলে তারা সাহসী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যত্যয় দেখা গেলে নিরীক্ষকরা অনেক ক্ষেত্রে ‘কোয়ালিফায়েড অপিনিয়ন’ দিয়ে থাকেন। মতামতগুলোতে নিরীক্ষাসংক্রান্ত কঠিন ভাষার বদলে বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজবোধ্য করে প্রকাশ করার সুযোগ আছে কি?
আমাদের পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী যারা আছেন তাদের আর্থিক সাক্ষরতা বেশ কম। অনেক ক্ষেত্রেই তারা গুজবের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করে থাকেন। ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজবোধ্য ভাষায় আর্থিক প্রতিবেদনে তথ্য দেয়ার বিষয়টিকে আমিও সমর্থন করি। তবে নিরীক্ষক আন্তর্জাতিক হিসাবমান অনুসরণ করে আর্থিক প্রতিবেদনে মতামত দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এসব মতামতকে সহজ ভাষায় বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে পারে। বিএসইসি চাইলে একটি নির্দেশনার মাধ্যমে নিরীক্ষকদের আর্থিক প্রতিবেদনে বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজবোধ্য করে অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন করার বিষয়ে বলতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে এলে ভালো।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন সংস্থা, কোম্পানি ও করপোরেশনগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায় যে যথাযথভাবে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করা হয় না। পাশাপাশি এসএমই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও সক্ষমতার ঘাটতির কারণে সেভাবে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করে না। এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করা যায় কীভাবে?
আমাদের অর্থনীতির ৮০ শতাংশই হচ্ছে এসএমই। কিন্তু এখানে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করা থেকে শুরু করে আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি কাঠামোবদ্ধ নয়। এর কারণ হচ্ছে আকারে ছোট হওয়ার কারণে তাদের সম্পদও সীমিত। এফআরসি এসএমই খাতের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করেছে এবং এর বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে। যদিও সবাই এটি করছে না। এসএমইর জন্য আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির স্ট্যান্ডার্ড অনেক সহজ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির জন্য উদ্বুদ্ধ হয় সেজন্য, সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চেম্বারগুলোর সঙ্গে আমরা আলোচনা করব। রাষ্ট্রায়ত্ত যেসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে সেগুলো কিন্তু ঠিকমতো আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করছে, যদিও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মোট সংখ্যার তুলনায় তা অত্যন্ত কম। এর বাইরে সরকারের বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে যথাযথভাবে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করা হয় না, অনেক সময় তারা নিরীক্ষাও করে না। তারা মনে করে সরকারের অডিট অধিদপ্তর থেকে বছরে একবার নিরীক্ষা করে যাবে, সেটাই যথেষ্ট। এফআরসির পক্ষ থেকে সম্প্রতি এ ধরনের সাড়ে তিনশ প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে তারা আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করে কিনা? এর ফলাফল যেটি এসেছে সেটি বেশ হতাশাজনক। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কোনো আর্থিক প্রতিবেদনই তৈরি করা হয় না। তাছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছে যে সম্পদ রয়েছে সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে যথাযথভাবে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করে সেটি সরকারের দিক থেকে দেখা উচিত।
এ বছর দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য কেমন যাবে বলে মনে করছেন?
আমি খুব বেশি প্রত্যাশা করছি না। কারণ নতুন সরকারের সবকিছু গুছিয়ে আনতে এ বছরের জুন পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তারপর নতুন অর্থবছরের বাজেট দেয়ার সময় চলে আসবে। সরকারের দিক থেকে চেষ্টা থাকবে ভালো একটি বাজেট দেয়ার। সব মিলিয়ে পঞ্জিকা বর্ষ বিবেচনায় নিলে এ বছরের শেষের দিকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
আইসিএবির প্রেসিডেন্ট হিসেবে আপনার মেয়াদে কী করতে চান?
আমাদের কাউন্সিল সদস্য ২০ জন। সিদ্ধান্ত নিয়েছি এ ২০ জনের মধ্য থেকে প্রতি বছর একজন করে নতুন প্রেসিডেন্ট হবেন। একইভাবে প্রতি বছর ভাইস প্রেসিডেন্টও পরিবর্তন হবে। আইসিএবির সব কার্যক্রম বড় আকারে অটোমেশনের দিকে যাব। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যেসব ইস্যু রয়েছে আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে আসতে চেষ্টা করব আমরা।