প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ এবং দায়ী ব্যক্তি বা সংস্থাকে চিহ্নিত করেছে। ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে বেশকিছু সুপারিশও করে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। গতকাল জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক বলেন, ‘দুর্ঘটনার তদন্ত অনুসন্ধানে তদন্ত প্রতিবেদনটি হাতে পেয়েছি। প্রতিবেদনটি আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বরাবর প্রেরণ করেছি। সেখান থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ প্রতিবেদনে কোনো ব্যক্তির নাম আছে কিনা জানতে চাইলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, সড়ক বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক উছেন মে বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। তদন্ত সঠিকভাবে করার স্বার্থে আমরা বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা দুর্ঘটনার কারণ ও আগামীতে দুর্ঘটনা রোধে বেশকিছু সুপারিশ করেছি।’
এদিকে এত মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও এখনো টনক নড়েনি ঘাট কর্তৃপক্ষের। ঠিক করা হয়নি ঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়ক, কোনো ধরনের পরিবর্তন হয়নি পুরনো ও মান্ধাতা আমলের পন্টুনগুলোর। এখনো ঝুঁকি নিয়ে ফেরিতে ওঠানামা করছে যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন।
বিআইডব্লিউটিএ আরিচা সেক্টরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম বলেন, ‘মানুষকে বলে সচেতন করা যায় না। পদ্মা সেতুতে যে যানবাহনগুলো অতিরিক্ত লোডের কারণে যেতে দেয়া হয় না সেগুলো এই নৌ-রুট দিয়ে পারাপার হয়। অথচ বিআইডব্লিউটিসির কোনো পদক্ষেপই নেই। যে কারণে ঘটে এমন বড় বড় দুর্ঘটনা।’
প্রসঙ্গত, গত ২৫ মার্চ বিকালে ফেরিতে উঠতে গিয়ে দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাট থেকে পদ্মা নদীতে পরে ডুবে যায় সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস। ওইদিন ৭ ঘণ্টার চেষ্টায় বাসটিকে পানির নিচ থেকে তুলে আনেন উদ্ধারকারীরা। একে একে উদ্ধার হয় ২৬টি মরদেহ।