কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এছাড়া ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে একটি কমিটি করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের সামনে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ২ সেকেন্ডের ভিডিওতে রাতের কোনো একসময় এক ব্যক্তিকে বোতল থেকে স্মৃতিস্তম্ভের ওপর তরল জাতীয় পদার্থ ছিটাতে দেখা যায়। পরে তিনি একটি জ্বলন্ত কাঠি স্মৃতিস্তম্ভের দিকে ছুড়ে দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান শোনা যায়। এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যও দিতে শোনা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
জানা গেছে, কুষ্টিয়া ইনসাইডারস নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে আজ দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার, কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বরসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, স্মৃতিস্তম্ভে কালো দাগ দেখা গেছে। তবে ঘটনাস্থলে আগুন দেয়ার বিষয়ে অন্য কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তায় একজন এএসআইয়ের নেতৃত্বে দুজন কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করেন। ঘটনার সময়ও সেখানে পুলিশের নিরাপত্তা ছিল। দায়িত্বে থাকা সদস্যদের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনও ঘটনাটি তদন্তে উদ্যোগ নিয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভে পুলিশি নিরাপত্তা থাকার পরও কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পুলিশ ও প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং ঘটনাস্থলের আলামত যাচাই করে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের পর এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।