চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার আইসিডিডিআর,বি হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। গরমের প্রকোপে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ১২ দিনে আইসিডিডিআর,বি হাসপাতালে ৩ হাজার ৮৭২ রোগী ভর্তি হয়েছেন। রোগী ভর্তির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দেড় গুণ বেশি বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও জেলা সিভিল সার্জন।
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের কক্ষগুলোয় ডায়রিয়া রোগীতে পূর্ণ। পর্যাপ্ত বেডের অভাবে রোগীদের বারান্দায় বিছানা বিছিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। বেশির ভাগ রোগী চাঁদপুরের। হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে রোগীতে পরিপূর্ণ। অনেক রোগীর ঠাঁই হয়েছে বারান্দায়। চিকিৎসকরা সেখানে রেখেই রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।
ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ২৪০-২৫০ ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী এ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। তাছাড়া আশপাশের জেলা কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, শরীয়তপুর থেকেও রোগী আসছেন।
চলতি মাসে গরম শুরু হওয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ভর্তীকৃত রোগীদের মধ্যে শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বারান্দায় চিকিৎসাধীন চাঁদপুর সদরের বিশ্বজিৎ (৩৪) জানান, গত তিনদিন যাবত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপায় না পেয়ে মতলব ডায়রিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এছাড়া কুমিল্লার লালমাই এলাকার সামছুন্নাহার
জানান, বেশ কয়েকদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখন একটু সুস্থ আছি।
চিকিৎসকরা জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ডায়রিয়ার রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে। দূষিত খাবার ও দূষিত পানি পান করা, ময়লাযুক্ত খাবার মুখে দেয়ার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।
আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র মেডিসিন অফিসার ডা. চন্দ্র শেখর দাস জানান, ভর্তি হওয়া রোগীদের সুস্থ হয়ে উঠতে পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ সাতদিন সময় লেগে যাচ্ছে। চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেন বলেন, অতিরিক্ত গরম, ময়লা পানি পান, বাইরের খাবার ও পুকুরের পানি ব্যবহারের কারণে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ সময় সবাইকে সতর্ক হতে হবে। ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। বাইরের খাবার এবং পচাবাসি খাবার পরিহার করতে হবে। ডায়রিয়া হলে স্যালাইনের পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।