নতুন নগর উন্নয়নের আগে কেন্দ্রীয়ভাবে এলপিজি সংরক্ষণ ব্যবস্থা করার প্রস্তাব আজম জে চৌধুরীর

তিনি জানান, ঢাকায় অনেকগুলো এলপিজি কোম্পানি এভাবে জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। বাসাবাড়ি বা কোনো ভবনের দুইতলা, তিনতলা কিংবা পাঁচতলায় সিলিন্ডার নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। এ ধরনের ব্যবস্থা করতে হলে প্রত্যেক সেক্টরে এর জন্য কিছু জায়গা রাখতে হবে

প্রত্যেকটি সেক্টর বা নতুন নগর উন্নয়নের আগে সেখানে জ্বালানি সরবরাহের পরিকল্পনা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ ‘জ্বালানি রূপান্তর: এলপিজি ও সোলার’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আগে মনে করতাম, গ্যাস পাব এবং বিদ্যুৎ পাব—এটা আমাদের ন্যাচারাল রাইট। কিন্তু এ পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন আমাদের বুঝতে হবে, জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে কী ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

আজম জে চৌধুরী আরো বলেন, আমরা সরকারের কাছে সবসময় বলছি, গ্যাস দাও, জ্বালানি দাও। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে, গ্যাস আহরণ বা জ্বালানি সরবরাহ করা খুব কঠিন কাজ। এখানে অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। সেজন্য প্রত্যেকটি সেক্টর ডেভেলপ করার আগে সেখানে জ্বালানির একটা পরিকল্পনা করার প্রয়োজন।

নতুন শহর বা আবাসিক এলাকা উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে এলপিজি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের যদি কোনো একটি শহরের প্রত্যেকটি সেক্টরকে একটি কনক্লেভের মতো ধরা হয়, সেখানে একটা স্টোরেজ করতে হবে। এলপিজি স্টোরেজ করা হলে সেখান থেকে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে সংযোগ দেয়া যেতে পারে। তখন সিলিন্ডার বহন করার প্রয়োজন হবে না।

ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান জানান, ঢাকায় অনেকগুলো এলপিজি কোম্পানি এভাবে জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। বাসাবাড়ি বা কোনো ভবনের দুইতলা, তিনতলা কিংবা পাঁচতলায় সিলিন্ডার নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। এ ধরনের ব্যবস্থা করতে হলে প্রত্যেক সেক্টরে এর জন্য কিছু জায়গা রাখতে হবে। কারণ এখানে সেফটি ইস্যু আছে। নির্দিষ্ট দূরত্ব—যেমন ১০ বা ১৫ মিটার—রেখে স্টোরেজ স্থাপন করা যেতে পারে এবং বিষয়টি ম্যান্ডেটরি করা উচিত।

স্বতন্ত্র বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা আইনের আওতায় আনার প্রস্তাব দেন আজম জে চৌধুরী। তিনি বলেন, যারা ইন্ডিপেন্ডেন্ট বাড়ি করছেন, প্রত্যেক বাড়িতে হয়তো ডেডিকেটেড কিছু সোলার সিস্টেম করা সম্ভব। এগুলো আইন বা বিধির মধ্যে ইনক্লুড করা উচিত।

অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ক্ষেত্রেও ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে এর সুবিধা বাসিন্দাদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টনের পরামর্শ দেন তিনি। আজম জে চৌধুরী বলেন, এখন যে মিটারিং সিস্টেম আছে, সরকার আপনাকে পেমেন্ট করছে। সুতরাং প্রত্যেকটি অ্যাপার্টমেন্টে যারা থাকবেন, সবাই এ সুবিধার ইকুয়াল বেনিফিশিয়ারি হতে পারেন। এগুলো যদি আমরা না করি, তাহলে বাসাবাড়ি বানানোর পর আপনারা জ্বালানি পাবেন না। এটা কিন্তু বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছোট আকারের জাহাজ বা বার্জে সৌর প্যানেল স্থাপন করে হাইড্রোজেন উৎপাদন ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধ করে পানীয় জল তৈরির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা এত বছর ধরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও ইনোভেশন করে ছোট এনার্জির বেনিফিট ইউজ করতে পারিনি।

ভবিষ্যতের শহর ও আবাসিক এলাকা উন্নয়নের সঙ্গে জ্বালানি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নিরাপদ এলপিজি সরবরাহ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে সমন্বিত করেই পরিকল্পনা করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরও