বাংলাদেশে গ্যাসের সংকট রয়েছে। এলপিজি এখানে বড় একটি বিকল্প হতে পারে। প্রাইমারি এনার্জির ৬৫ শতাংশই আমদানি করতে হচ্ছে। তেল ও কয়লার পুরোটাই আমদানি করতে হয়। ব্যবহার করা গ্যাসের বড় অংশও আমরা আমদানি করি। অর্থাৎ আমদানিনির্ভরতা বেড়ে যাচ্ছে। বিপরীতে নিজস্ব গ্যাস উত্তোলন কমছে। সরকার স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও সেখানে ভালো সংবাদ নেই। আমাদের এলএনজি সংরক্ষণের অবকাঠামোগত সক্ষমতাও কম। নতুন অবকাঠামো তৈরি করতে কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগবে। সুতরাং এলএনজির চেয়ে এলপিজির প্রসার বেশি সুবিধা বয়ে আনবে।
২০১৬-১৭ সালে আমাদের নিজস্ব গ্যাসের সরবরাহ সর্বোচ্চ ছিল। এরপর এটি কমতে শুরু করেছে, যা আর ঠেকানো যায়নি। এ সংকট এলপিজি দিয়েও আমরা ঠেকাতে পারছি না।
পেট্রোবাংলার বিভিন্ন তথ্য বলছে, ২০২৯-৩০ সালে আমাদের পাঁচ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন পড়বে। এ মুহূর্তে আমাদের সরবরাহ ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এখন আমাদের চাহিদা চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ কয়েক বছর পরে চাহিদা আরো ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়বে।
দেশে সবচেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে। এ খাতেই ৫৯ শতাংশ গ্যাস ব্যয় হয়। ১১ শতাংশ ব্যবহার হয় বাসাবাড়িতে। ১৮ শতাংশ যায় শিল্প খাতে। সার উৎপাদনে ৬ শতাংশ এবং সিএনজিতে ৫ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। এ জায়গায় এলপিজি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
দেশের ৫৬ শতাংশ শিল্প-কারখানা গ্যাসভিত্তিক। এলপিজি পরিবহন সহজ। এর বাইরে নানা কারণেই এ খাত সম্ভাবনাময়। কিন্তু এটি আমাদের জাতীয় প্রাইমারি জ্বালানির মাত্র ২ শতাংশ সরবরাহ করছে।
তবে ছয়-সাত বছর আগেও এলপিজির সরবরাহ ছিল ৮০ হাজার টন, এখন যা ১৫ লাখ টন হয়েছে। এর বাজার ও চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ২০৩০ সালে এ চাহিদা ২৫ লাখ টনে পৌঁছবে। ২০৪১ সালের মধ্যে এলপিজির চাহিদা দাঁড়াবে ৫০ লাখ টনে, আর ২০৫০ সালে এক কোটি টনে।
বর্তমানে এলপিজির ৮০ শতাংশই ব্যবহার হয় বাসাবাড়িতে। শিল্প ও ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার হয় ১২ শতাংশ। ৮ শতাংশ ব্যবহার হয় অটোগ্যাসে। এলপিজি খাতে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। বাজারে এর ৯৮ শতাংশই সরবরাহ করে বেসরকারি খাত। ২ শতাংশ শেয়ার সরকারি খাতের। এলপিজির লাইসেন্স আছে ৫৮টি প্রতিষ্ঠানের। বাজারে এলপিজির সিলিন্ডার রয়েছে চার কোটি। এলপিজির গড় মাসিক বাজার ১ লাখ ৩০ হাজার টন।
এলপিজিই একমাত্র জ্বালানি, যেটি কোনো ধরনের সাবসিডি (ভর্তুকি) ছাড়াই গড়ে উঠেছে এবং টিকে আছে। প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে শিল্পকে সরিয়ে আনতে হলে এলপিজি সহজ বিকল্প অপশন হতে পারে। এ খাতের প্রসার ও জনসাধারণের কাছে সহজলভ্য করতে পলিসি প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি খাতের অংশগ্রহণও প্রয়োজন।