আহসান খান চৌধুরী

শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব প্রশিক্ষণ দরকার

বর্তমানে প্রাণ-আরএফএলে আমরা ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ কাজ করি। ৩০ বছর আগে আমি আমার বাবার সঙ্গে ব্যবসা করতাম। তখনকার গ্র্যাজুয়েটদের মান এবং এখনকার গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে অনেক পার্থক্য।

বর্তমানে প্রাণ-আরএফএলে আমরা ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ কাজ করি। ৩০ বছর আগে আমি আমার বাবার সঙ্গে ব্যবসা করতাম। তখনকার গ্র্যাজুয়েটদের মান এবং এখনকার গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে অনেক পার্থক্য। আপনারা ভালো কাজ করছেন। আমার মনে হয়, ভালো শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব প্রশিক্ষণ দরকার।

আজকের দিনে একজন গার্মেন্টসের ম্যানেজারের বেতন একজন মাস্টার্স ডিগ্রিধারী ম্যানেজারের থেকে বেশি। বাংলাদেশ এমন একটা অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে উচ্চ শিক্ষিত মানুষের চাহিদা উত্তরোত্তর কমবে। তাহলে কি আগামীতে উচ্চ শিক্ষিত মানুষের চাহিদা থাকবে না? অবশ্যই থাকবে। গার্মেন্টস সেক্টরে সমস্যা বাধলে আমরা মিড ম্যানেজমেন্টের শ্রমিক পাই না। এন্ট্রি লেভেলের শ্রমিক দিয়ে কারখানা চালানোর চেষ্টা করি। কিন্তু শিক্ষিতরা যদি হাতেকলমে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে আসেন, তাহলে ভালো হয়।

আমি কয়েকজন উপাচার্যের কথা শুনলাম। তারা এমপ্লয়িবিলিটি নিয়ে কথা বলছিলেন। এজন্য আমি তাদের অভিনন্দন জানাই। স্যার, আপনারা বেশি করে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট করবেন। আমার মেয়ে যখন কানাডায় পড়ছিল, তাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট শুরু হয়েছে গ্রেড ১২ থেকে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট যদি ভালো হয়, আমরা একটি ভালো প্রজন্ম পাব, যারা বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।

আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। এখানে গ্রামীণফোনের সিইও আছেন, তিনি নিশ্চয়ই একমত হবেন—গ্রামীণ ব্যাংক বা গ্রামীণফোনের সিইও হতে গেলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আপনারা যদি পরিশ্রমী মানুষগুলোকে কর্মক্ষেত্রে পাঠান তাহলে তারা ভালো করবেন।

সরকারি, বেসরকারি—এ বিতর্ক শুনতে শুনতে আমি ক্লান্ত। আমি আমেরিকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি। আমি দেখেছি, সেখানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে শিক্ষার মান উন্নত করার চেষ্টা করছে।

একাডেমিক এক্সিলেন্সের ওপর নজর রাখা দরকার। কারিকুলাম নিয়ে অনেক কথা শুনলাম। আমেরিকায় আমি দেখছি, প্রতিনিয়ত কারিকুলাম পরিবর্তন হয়। ওদের যদি কারিকুলাম পরিবর্তন হতে পারে, তাহলে আমাদের আরো বেশি পরিবর্তন হওয়া উচিত। আগামী ৩০ বছর চীন থেকে প্রচুর ব্যবসা বাংলাদেশমুখী হবে। বাংলাদেশমুখী এ ব্যবসাগুলোর জন্য বর্তমান কারিকুলামের পরিবর্তন করা দরকার। আমি খুব খুশি, কারণ আপনারা ম্যাথমেটিক্স, ডাটা অ্যানালিটিক্স নিয়ে কথা বলেছেন। আগামী দিনে এগুলোই আমাদের এগিয়ে যেতে ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশে যদি শিক্ষিত যুবকদের চাকরি না থাকে, চিন্তার কোনো কারণ নেই। চলুন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাই। আরব দেশ বাংলাদেশ থেকে শুধু লো স্কিল ওয়ার্কার চায় না, তারা হাই স্কিল ওয়ার্কারও চায়। আজকের পৃথিবী হাই স্কিল ওয়ার্কারের জন্য বসে আছে।

ভারত থেকে প্রচুর শিক্ষার্থী বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোয় পড়তে আসছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান যদি আইআইটি, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট বা এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের মতো হয়, তাহলে আগামীতে অবশ্যই আরো বেশি শিক্ষার্থী বাইরে থেকে বাংলাদেশে পড়তে আসবেন।

আমরা সবাই বাংলাদেশকে ভালোবাসি। বাংলাদেশে মেধাবী মানুষ অনেক আছে। আমাদের প্রাণ-আরএফএলকে চালাচ্ছেন বাংলাদেশী গ্র্যাজুয়েটরা। তারাই আমাদের বিশ্বমণ্ডলে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছেন। আগামী দিনে বাংলাদেশে আরো অনেক বহুজাতিক কোম্পানি হবে। বাংলাদেশী গ্র্যাজুয়েটরাই পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশকে একটি সুন্দর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবেন।

—আহসান খান চৌধুরী, চেয়ারম্যান ও সিইও, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ

আরও