হামের উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু, মোট ৯৫০

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭১টি শিশু। গতকাল বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮৫১টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ সময়ে মোট ৯৫০টি শিশু মারা গেছে।

এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৭৩টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৮। এ সময়ে ১ হাজার ১৯টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৫৪টি শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৬৫১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৩ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে এরই মধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

এদিকে, সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হামে মৃতদের ৯০ শতাংশ এ রোগের কোনো টিকা পায়নি। মৃতদের ৭ দশমিক ৯ শতাংশ হামের এক ডোজ টিকা পেয়েছে; আর ২ দশমিক ১৯ শতাংশ হামের দুই ডোজ টিকা পাওয়ার পরও মারা গেছে।

হামে মারা যাওয়া মানুষের বয়সভিত্তিক বিভাজনও করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাতে দেখা যাচ্ছে, মৃতদের ২০ শতাংশের বয়স ছয় মাসের কম; আর ছয় থেকে নয় মাস বয়স ৩১ শতাংশের। অর্থাৎ হামে মৃতদের ৫১ শতাংশের বয়স নয় মাসের কম। তাদের কারো টিকা দেয়ার বয়সই হয়নি। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া নিয়মিত এ পরিসংখ্যানে বয়সভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যত মৃত্যু হচ্ছে, তার সবই হামে মৃত্যু বলে বিবেচনা করা হয়।

আরও