দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বাড়ছে ১১ মাসে নিহত ৫০১৬

সরকারি হিসাবে ২০২২ সালের পর থেকে দেশে ধারাবাহিকভাবে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বাড়ছে। এ প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে চলতি বছরও।

সরকারি হিসাবে ২০২২ সালের পর থেকে দেশে ধারাবাহিকভাবে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বাড়ছে। এ প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে চলতি বছরও। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৫ হাজার ১৬ জন। সংস্থাটির হিসাবে আগের বছরের একই সময়ে ৪ হাজার ৯৮১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

বিআরটিএর তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৪৮৩ জন। একইভাবে ফেব্রুয়ারিতে ৪৮২, মার্চে ৪৪২, এপ্রিলে ৪৮০, মে মাসে ৪৯০, জুনে ৫৬৬, জুলাইয়ে ৩৮০, আগস্টে ৪১৮, সেপ্টেম্বরে ৪০৯, অক্টোবরে ৪২৩ ও সর্বশেষ নভেম্বরে ৪৪৩ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

সরকারি হিসাবে ২০২২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ৪ হাজার ৬৩৬ জনের। ২০২৩ সালে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২৪ জনে। আর ২০২৪ সালে সড়কে মৃত্যু হয় ৫ হাজার ৪১৪ জনের। চলতি বছরের ১১ মাসে দুর্ঘটনায় নিহতের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে বছর শেষে প্রাণহানির মোট সংখ্যা ২০২৪ সালকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো চালকদের অসচেতনতা, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ, ওভারটেকিং করার প্রবণতা এবং দীর্ঘক্ষণ বিরতিহীন গাড়ি চালানোর ফলে সৃষ্ট ক্লান্তি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন রাস্তায় চলাচল, সরু ও ভাঙাচোরা রাস্তা, বিপজ্জনক বাঁক এবং ফুটপাত দখল হওয়ার ফলে পথচারীদের মূল সড়কে চলাচল সমস্যাটিকে আরো প্রকট করে তোলে। পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের উপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক সচেতনতার অভাবকে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির জন্য দায়ী করছেন তারা।

সড়ক দুর্ঘটনা ও বিশৃঙ্খলার প্রধান কারণ পুরনো ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন। বিআরটিএর তথ্য বলছে, দেশে অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ফুরিয়ে যাওয়া যানবাহন আছে ৮০ হাজারের বেশি। আর ৬ লাখ ২৬ হাজার যানবাহনের হালনাগাদ ফিটনেস সনদ নেই। এসব ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়ক থেকে তুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। সড়কে দুর্ঘটনা-বিশৃঙ্খলার আরেকটি কারণ হলো অদক্ষ চালক।

এ চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে চালকদের স্বীকৃত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রশিক্ষণে দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হবে—প্রথমত, সড়কের বিভিন্ন সাইন ও চিহ্ন সম্পর্কে জ্ঞান এবং দ্বিতীয়ত, যানবাহন সঠিকভাবে চালানো ও নিয়ন্ত্রণ করার দক্ষতা। কারণ, বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। এর পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স-সংক্রান্ত কাজগুলো বিআরটিএ থেকে সরিয়ে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলোর মাধ্যমে পরিচালনা করার কথাও জানান তিনি।

আরও