চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় কনটেইনার ও পণ্য ওঠানামা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার পাশাপাশি প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন শ্রমিক ও কর্মচারীরা। বন্দরের সবচেয়ে বড় স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুর তিনটার দিকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন।

এর আগে গত শনিবার থেকে টানা তিনদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি। সেই কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই আন্দোলনকারীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। এতে বন্দরের চলমান অচলাবস্থা আরো দীর্ঘায়িত হতে যাচ্ছে।

বন্দর সূত্র জানায়, আজ সকালের জোয়ারে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি থেকে চারটি জাহাজ ছাড়ার এবং বহির্নোঙর থেকে আটটি জাহাজ জেটিতে ভেড়ার কথা ছিল। জাহাজ চলাচলের নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। তবে আন্দোলনের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি জাহাজও আনা-নেয়া সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, পাইলটরা জাহাজে ওঠার আগেই আন্দোলনকারীরা ডক অফিস এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন। সকালে জাহাজ পরিচালনা করতে আসা বন্দরের পাইলটরা কাজ করতে পারেননি। বিক্ষোভকারীরা সহায়ক লজিস্টিক সেবায় নিয়োজিত কর্মী ও কর্মচারীদের কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করেন।

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, বন্দরের জেটিতে জাহাজ আনা-নেয়ার কাজ করেন বন্দরের নিয়োগপ্রাপ্ত পাইলটরা। কর্ণফুলী নদীর চ্যানেল দিয়ে প্রায় ১৪ নটিক্যাল মাইল পথ অতিক্রম করে জেটি ও সাগরের বহির্নোঙরের মধ্যে আসা ও বহির্গামী জাহাজ পরিচালনা করতে হয় তাদের। এ কাজে টাগবোটসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক নৌযানের ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ করা হয় ডক অফিস থেকে। আজ সকাল ১০টার দিকে শ্রমিক-কর্মচারীরা ডক অফিসে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা কর্মীদের অফিস থেকে বের করে দিয়ে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে পাইলটদের আনা-নেয়ার জন্য কোনো নৌযান ছাড়ানো সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, আজ সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত জোয়ারের সময় জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে নির্ধারিত কোনো জাহাজই জেটিতে ভেড়ানো বা জেটি থেকে ছাড়ানো যায়নি।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় কনটেইনার ও পণ্য ওঠানামা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার পাশাপাশি প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শ্রমিক নেতা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, শবে বরাত উপলক্ষে আমরা কর্মসূচি শিথিল করার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু আজ ঢাকায় বিডা কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নেগোসিয়েশন কমিটিকে চাপ দিতে উপস্থিত হয়েছেন। এতদিন কনটেইনারপ্রতি দর নিয়ে আলোচনা চলছিল। এখন রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এটি হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বন্দর লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

আরেক সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ঢাকায় আমাদের কর্মকর্তাদের আটকে রেখে জোর করে চুক্তিতে সই নেয়ার চেষ্টা চলছে। এ পরিস্থিতিতে কর্মসূচি শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই। তাই আমরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আরও