এজন্য সরকারের প্রতি অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গতকাল আয়োজিত এ বৈঠকে ডিসিসিআইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী, সহসভাপতি মো. সালেম সুলায়মান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী এবং মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি অনুবিভাগের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন উপস্থিত ছিলেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, ‘এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রফতানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে এফটিএ ও পিটিএ স্বাক্ষরের উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি।’
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শুধু রফতানি বাজার নয়, বরং পণ্যের বহুমুখীকরণও প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি, ‘আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।’ এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতি আরো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাসকীন আহমেদ। তিনি আরো বলেন, ‘আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃষি খাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরাসরি অর্থ পরিশোধের (ডাইরেক্ট পেমেন্ট) প্রক্রিয়া সহজ করা হলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে।’
জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সহায়ক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে আফ্রিকাসহ নতুন বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি খাতের মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন। আফ্রিকার বাজারে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, ফলমূল এবং সিরামিক পণ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।’
এসব সুযোগ কাজে লাগাতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ ইসলাম।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এলডিসি-পরবর্তী বাস্তবতায় উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’