গতকাল জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে নরসিংদী-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য খায়রুল কবির খোকনের টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘অপরিকল্পিত নগরায়ণ, আবাসন নির্মাণ ও শিল্পায়নের কারণে দেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আবাদযোগ্য জমি হারিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলা ও দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা আইন, ২০২৬ প্রণয়ন অন্যতম।’
তিনি বলেন, ‘এক ফসলি ও দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরের জন্য কৃষকদের উন্নতমানের বীজ, সেচ সুবিধা এবং সহজ শর্তে কৃষি ঋণ দেয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের কৃষিকাজে আরো উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে তারা কৃষিজমি অকৃষি খাতে ইজারা দেয়া বা বিক্রি না করে আবাদ অব্যাহত রাখেন।’
কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, শস্য বহুমুখীকরণ কর্মসূচির আওতায় উচ্চমূল্য ও পুষ্টিকর শস্যের উৎপাদন বাড়ানো, উন্নত প্রযুক্তি ও বীজ বিতরণ, কৃষক প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা বাড়ানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ফলে দেশে একক ফসল চাষের প্রবণতা কমে বহু ফসল চাষের নিবিড়তা বেড়েছে এবং ফল ও সবজির উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের কৃষিকে অধিক লাভজনক, পুষ্টিসমৃদ্ধ এবং জলবায়ু সহনশীল করতে শস্য বহুমুখীকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চল, বরেন্দ্র অঞ্চল, হাওর এলাকা ও পাহাড়ি অঞ্চলসহ দেশের প্রায় সব জেলা ও উপজেলায় এ কর্মসূচির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নতমানের বীজ এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুষ্টিসমৃদ্ধ ও উচ্চমূল্যের ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কৃষকের আয়ও বাড়ে।’
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘শস্য বহুমুখীকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জামালপুর সদর উপজেলায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি), প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্প, কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারকরণ প্রকল্প, বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে কৃষিতে বহুমুখীকরণ বাড়ছে, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ হচ্ছে এবং খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন হচ্ছে।’