‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা রাবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পোষ্য কোটার’ আন্দোলন ঘিরে কর্মচারীদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পোষ্য কোটার’ আন্দোলন ঘিরে কর্মচারীদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জুবেরী ভবনে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে অফিসার্স সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘সোমবার থেকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কমপ্লিট শাটডাউনে থাকবে।’

উপ-উপাচার্যসহ অন্য শিক্ষকদের ‘লাঞ্ছিত’ করার অভিযোগ এনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকের সামনে লিচুতলায় সকাল থেকে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তবে কর্মসূচিতে রাকসুর সব কার্যক্রমসহ জরুরি সেবা কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়।

অফিসার্স সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমাদের উপ-উপাচার্য এবং কর্মকর্তাদের হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের দৃশ্যমান বিচার কার্যকর এবং আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কমপ্লিট শাটডাউন থাকবে। চিকিৎসা, পানি, বিদ্যুৎসহ জরুরি প্রয়োজন এ কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকবে। ক্লাস-পরীক্ষা এ কর্মসূচির আওতায় থাকবে। তবে এ কর্মসূচির কারণে রাকসু পিছিয়ে গেলে সেটা প্রশাসনের ব্যর্থতা।’

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাকসু নির্বাচন বৈঠক শেষে কমিশন সদস্য মোস্তাফা কামাল আকন্দ বলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখলে রাকসু নির্বাচন ২৫ সেপ্টেম্বরই অনুষ্ঠিত হবে।’

এর আগে গত শনিবার বেলা আড়াইটা থেকে শিক্ষার্থীরা পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবনের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। বেলা ৩টার দিকে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হলে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা তার গাড়ি আটকে দেন। পরে তিনি হেঁটে তার বাসভবনের দিকে যেতে থাকেন। শিক্ষার্থীরা তার বাসভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে দিলে তিনি জুবেরী ভবনের দিকে যান। সঙ্গে প্রক্টর মাহবুবর রহমানও ছিলেন। পরে উপ-উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে প্রবেশ করতে গেলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন মাটিতে পড়ে যান। এছাড়া শিক্ষার্থীরা উপ-উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ বেশকিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এমন পরিস্থিতিতে রাত পৌনে ১০টার দিকে সহ-উপাচার্যসহ অন্য শিক্ষকদের ‘লাঞ্ছিত’ করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রোববার কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়।

আরও