ফেনীর ছয় উপজেলায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) গ্রাহক চাহিদা রয়েছে ১৪০ মেগাওয়াট।
এর
মধ্যে স্থানীয় উৎপাদন রয়েছে ১৪৭ মেগাওয়াট।
ফলে এখন থেকে জেলায় ওভারলোড ও লোডশেডিং হবে না বলে জানিয়েছেন বিপিডিবির কর্মকর্তারা।
এদিকে গতকাল সকালে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ফেনীতে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর ১০ উদ্যোগের অন্যতম ‘ঘরে
ঘরে বিদ্যুৎ’
বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দেশের ১৮ জেলার ২৩ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এ
সময় প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে বেসরকারিভাবে স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ফেনী-লংকা পাওয়ার লিমিটেডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভিডিও কনফারেন্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী, জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী, পিডিবি সদস্য মো. জাকির হোসেন, আরইবির প্রকল্প পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী, পিডিবির বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সহিদুল ইসলাম, ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বিকমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ফেনী পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের জেনারেল ম্যানেজার আখতার হোসেন জানান, ৯২৮ বর্গকিলোমিটারের ফেনী জেলায় ৬৪৪টি গ্রাম রয়েছে।
এখানে ২৩০ এমভি ক্ষমতাসম্পন্ন ১৩টি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯১১টি বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।
শতভাগ বিদ্যুতায়নের জন্য ৬ হাজার ৩৬৭ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করা হয়েছে।
এজন্য সরকারের ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১০৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
ফেনীতে বিদ্যুতের চাহিদা বিষয়ে পিডিবির বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সহিদুল ইসলাম জানান, ফেনীতে পিডিবির গ্রাহক চাহিদা রয়েছে ১৪০ মেগাওয়াট।
স্থানীয় উৎপাদন আছে ১৪৭ মেগাওয়াট।
তাই এখন আর ওভারলোড, লোডশেডিং ফেনীতে হবে না।
সহিদুল ইসলাম জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে সবসময় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মানুষকে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
বিশেষ করে সেচ মৌসুমে সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ দেয়ার কারণে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বেড়ে যায়।
ফেনী-লংকা পাওয়ার প্লান্ট থেকে ১১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ায় গ্রিড লাইনে আর ওভারলোডিং হবে না।
গত বছরের ২৪ নভেম্বর বিদ্যুৎ প্রকল্পে পরীক্ষামূলক উৎপাদনকালে প্লান্ট ম্যানেজার (ওনড) কামাল পেইরিস জানান, বিপিডিবির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ১৫ বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ফেনীর কাশিমপুরে ১২ একর জমিতে বিদ্যুৎ প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়েছে।
প্রকল্পের ব্যয় ৮০০ কোটি টাকা।
গত
২৪
নভেম্বর ফার্নেস অয়েলচালিত এ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।
প্রকল্প থেকে উৎপাদিত ১১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ফেনী ১৩২ কেভি গ্রিড স্টেশনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করা হয়েছে।