বৈদেশিক কর্মসংস্থান

দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলো শ্রমবাজার বহুমুখী করলেও সৌদিনির্ভর বাংলাদেশ

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নীতিগত সিদ্ধান্তের জন্য পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। কারিগরি শিক্ষার কথা বলা হলেও বাস্তবে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে (টিটিসি) বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষার্থীরা দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন না।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত বছরের মে মাসে জাপান সফরে ঘোষণা দিয়েছিলেন পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ শ্রমিক নেবে জাপান। তবে ওই বছর জাপানে কর্মী গেছেন ১ হাজার ৫৬৪ জন। আর এ বছর গতকাল পর্যন্ত গেছেন ১ হাজার ৭৪৮ জন কর্মী। ঠিক একই সময়ে পাশের দেশ নেপাল থেকে জাপানে কর্মী গেছেন ২২ হাজার ২৬৬ জন। এছাড়া এ বছর বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী গেছেন মাত্র ১ হাজার ৯০১ জন। একই সময় নেপাল থেকে দেশটিতে কর্মী পাঠানো হয় ৯ হাজার ৭৮ জন। অথচ ঢাকার প্রাণকেন্দ্রেই রয়েছে বিশেষায়িত বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

নেপালের মতো দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেয়া যায়, তারা বৈদেশিক শ্রমবাজার বহুমুখী করলেও বাংলাদেশ এখনো সৌদি আরবনির্ভরই রয়ে গেছে। বাংলাদেশ থেকে প্রচলিত যেসব বাজারে কর্মী যান, একদিকে সেগুলোর সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না, অন্যদিকে চালু হচ্ছে না বন্ধ থাকা শ্রমবাজার। আবার নতুন বাজারও সম্প্রসারণ হচ্ছে না। ফলে দেশের শ্রমবাজার হয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক, বিশেষ করে সৌদি আরবকেন্দ্রিক। এছাড়া যেখানে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশ বৈদেশিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠাচ্ছে, বাংলাদেশ পাঠাচ্ছে সবচেয়ে বেশি অদক্ষ কর্মী।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নীতিগত সিদ্ধান্তের জন্য পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। কারিগরি শিক্ষার কথা বলা হলেও বাস্তবে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে (টিটিসি) বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষার্থীরা দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও নেই কারিগরি কোর্স। ফলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে নতুন বাজার ধরতে পারছে না বাংলাদেশ। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য মতে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ জন কর্মী বিদেশ গেছেন, যার দুই-তৃতীয়াংশই অর্থাৎ,৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৯৪ জন গেছেন সৌদি আরবে। পাশাপাশি কাতারে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৯৮ জন, কুয়েতে ৪২ হাজার ৭৪৬ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ১৩ হাজার ৭৫০ জন এবং অন্যান্য দেশে গেছেন ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩২২ জন। আর চলতি বছর গতকাল পর্যন্ত বিএমইটি থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র নিয়েছেন ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭১৮ জন। এর মধ্যে ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৪৩ জনই সৌদি আরবের।

বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন কোনো শ্রমবাজার সম্প্রসারণ করতে পারেনি। তবে গত বৃহস্পতিবার দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগ স্থগিত করেছিল মালয়েশিয়া। দেশটিতে বাজার বন্ধ হওয়ার আগে ২০২৩ সালে সেখানে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ জন কর্মী যাওয়ার রেকর্ড ছিল।

জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জয়নাল আবেদীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দক্ষতা পরীক্ষায় কৃষি খাতে বাংলাদেশীদের পাসের হার বেশি। ড্রাইভিং, নির্মাণ ও অন্যান্য খাতের জন্য দেয়া দক্ষতার পরীক্ষায় পাসের হার কম। এছাড়া জাপানি ভাষা পরীক্ষা জেএফটি বেসিকে পাসের হার ৩০ শতাংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে জাপানে এক লাখ কর্মী পাঠাতে আমরা কাজ করছি। একটা রোড ম্যাপ তৈরি করেছি।’

নেপাল সরকারের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিভাগের তথ্য মতে, ২০২৫ সালে দেশটির মোট ৪ লাখ ৬ হাজার ৪০৪ জন কর্মীর প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ প্রধান চার উপসাগরীয় দেশের বাইরে গেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় শ্রমবাজার রয়েছে দেশটির। দেশটি থেকে ইউএইতে গেছেন ৯৪ হাজার ১৯০ জন, সৌদি আরবে ৫০ হাজার ২৭২ জন, কাতারে ৩৯ হাজার ১২৫ জন এবং কুয়েতে গেছেন ২৫ হাজার ৫৬৫ জন। নতুন বাজার হিসেবে যুক্ত হয়েছে জাপান, সাইপ্রাস, দক্ষিণ কোরিয়া, রোমানিয়া, তুরস্ক, পর্তুগাল ও অস্ট্রিয়া। দেশটি থেকে সাইপ্রাসে ১১ হাজার ৬৯ জন, রোমানিয়ায় ২৭ হাজার ১৬০ জন, তুরস্কে ৬ হাজার ১০০, মৌরিতানিয়ায় ৬ হাজার ১৩৪ কর্মী গেছেন।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০২৫ সালের ২৭ মে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপাল সরকার কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, বাহরাইন, জর্ডান, মালয়েশিয়া, ইউএই, জাপান, মরিশাস, ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য, রোমানিয়া, জার্মানিসহ ১২টি দেশের সঙ্গে শ্রম অভিবাসন চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সই করেছে। পাশাপাশি কর্মীদের নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে আলবেনিয়া, অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, মাল্টা, মালদ্বীপ, সার্বিয়া, সাইপ্রাস, লুক্সেমবার্গ, ব্রুনেই, পোল্যান্ড, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ক্রোয়েশিয়া, বেলজিয়াম, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনামসহ আরো ১৬টি দেশের সঙ্গে শ্রম চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, একই সময়ে দেশটির মোট ৪ লাখ ৪৯ হাজার ১০৮ জন কর্মী বিদেশে যান। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশই গেছেন ইউএইতে, এ সংখ্যা ২ লাখ ৬৮৫ জন। এছাড়া সৌদি আরবে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮১১ জন, কুয়েতে ৪৭ হাজার ৮৭ জন, অন্যান্য দেশে ৪২ হাজার ৬১৮ জন ও কাতারে গেছেন ২১ হাজার ৯০৭ জন।

ভারত মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদেশে দক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে নিয়েছে বেশকিছু পদক্ষেপ। দেশটির দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, দেশটি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি, জাপান, কাতার, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে শ্রম ও দক্ষতা সহযোগিতাবিষয়ক সাতটি সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে। এছাড়া ফ্রান্সের সঙ্গে এ ধরনের একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল, ডেনমার্ক, ইতালি, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, জাপান ও অস্ট্রিয়ার সঙ্গে করা আটটি অভিবাসন অংশীদারত্ব চুক্তি (এমএমপিএ) এবং শ্রমিক পাঠানোর চুক্তিতে (এলএমএ) দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে ভারতীয় কর্মীদের দক্ষতার সমন্বয় ঘটানো।

পাকিস্তানের ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট এবং পাকিস্তান ইকোনমিক সার্ভে ২০২৫-২৬-এর তথ্য মতে, গত বছর কর্মসংস্থানের জন্য দেশটির মোট ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৫২৬ জন কর্মী বিদেশে যান। এর বেশির ভাগ অর্থাৎ ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪৩৭ জন সৌদি আরবে গেছেন। এছাড়া কুয়েতে ৬ হাজার ৭৯৯ জন, কাতারে ৬৮ হাজার ৩৮৬, ইউএইতে ৫২ হাজার ৬৬৪ এবং অন্যান্য দেশে গেছেন ১ লাখ ৫ হাজার ২৪০ জন। তবে দেশটির নতুন বাজারের তালিকায় রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, জাপান, রোমানিয়া, যুক্তরাজ্য, সাইপ্রাস, আজারবাইজান, সুইডেন, স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি থেকে কর্মসংস্থানের জন্য চীনে গেছেন ২ হাজার ২৩০ জন, সাইপ্রাসে ২ হাজার ৩৯৩, গ্রিসে ৩ হাজার ৩৬৭, জাপানে ২ হাজার ২৪৪, রোমানিয়ায় ১ হাজার ১০৯, যুক্তরাজ্যে ৪ হাজার ৩৫৫, যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৫, তুরস্কে ৫ হাজার ২৮৮ জন।

শ্রীলংকা ব্যুরো অব ফরেন এমপ্লয়মেন্টের (এসএলবিএফই) বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২৫-এর তথ্য মতে, দেশটি থেকে বিদেশে যাওয়া মোট ৩ লাখ ১১ হাজার ২২৩ জন কর্মীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৭ হাজার ৬৫৭ জন বা ২৫ শতাংশ কুয়েতে এবং সবচেয়ে কম সৌদি আরবে গেছেন ৩৬ হাজার ৪৪১ জন। এছাড়া ইউএইতে ৫৯ হাজার ৬১১ জন ও কাতারে ৪৪ হাজার ৯১৪ জন গেছেন। অন্যান্য দেশে গেছেন ৯২ হাজার ৬০০ জন। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে শ্রীলংকার নতুন বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, রোমানিয়া, আয়ারল্যান্ড, কানাডা ও ফিজি। কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা না থাকার উদাহরণ দেশটি।

শ্রীলংকার জাতীয় অভিবাসন নীতি ও কর্মপরিকল্পনা ২০২৩-২৭ অনুযায়ী, দক্ষ ও আধা দক্ষ কর্মী তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতার সামঞ্জস্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে দেশটির জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিকল্পনা হালনাগাদ, কাজের চাহিদাভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ চালু, পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি ও দক্ষতার সনদ প্রদান এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য সমন্বিত দিকনির্দেশনা ও রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এছাড়া অভিবাসী কর্মীদের দক্ষতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে ‘স্কিল পাসপোর্ট’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক ও সদস্য ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আরো ১০ বছর আগেই আমরা সতর্ক করেছিলাম দেশের শ্রমবাজার মাত্র চার-ছয়টি দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়াটা মোটেও টেকসই নয়। সাময়িকভাবে কর্মী পাঠিয়ে বেকারত্ব কমানো ও রেমিট্যান্স বাড়ানো দেখালেও দীর্ঘমেয়াদে তা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে—যা আজ আমরা প্রত্যক্ষ করছি। আমাদের উচিত ছিল নতুন নতুন বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষণ করে বিকল্প পথ খোঁজা। সরকার কিছু গবেষণা করে সম্ভাবনাময় দেশ চিহ্নিত করলেও বাস্তবে কীভাবে এগোনো হবে বা কারিগরি শিক্ষা কীভাবে জোরদার করা হবে—তার সুস্পষ্ট কোনো কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের “‍ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ” চুক্তি থাকলেও আমাদের কাছে পাঠানোর মতো পর্যাপ্ত দক্ষ কর্মী নেই। আমরা যদি শুরু থেকেই ভারতের মতো পরিকল্পিতভাবে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারতাম, তবে শ্রমবাজারের জন্য আমাদের ঘুরে বেড়াতে হতো না; বরং বৈশ্বিক চাহিদা পূরণে বিদেশীরাই চুক্তি করে আমাদের দেশ থেকে লোক নিয়ে যেত।’

রক্ষণশীল পপুলিস্ট রাজনীতির সংঘাতময় বিশ্ব ব্যবস্থায় যেকোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরতা দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন অভিবাসীদের নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী।

তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যেকোনো জরুরি অবস্থায় বা যেকোনো ধরনের ক্রাইসিস মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন আমাদের অভিবাসী শ্রমিকরা। এর স্পষ্ট প্রমাণ আমরা সৌদি আরবে হুথিদের সাম্প্রতিক আক্রমণেও দেখলাম, যেখানে তাদের দীর্ঘদিনের সংঘাত ও দ্বন্দ্বের চরম পরিণতিতে কর্মরত বাংলাদেশীরা সরাসরি এফেক্টেড হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন তাদের মূল্যবান জীবন যাচ্ছে ও অনেকে আহত হচ্ছেন, অন্যদিকে যারা বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন, তাদের সবকিছুই চরম দোদুল্যমানতার ভেতরে পড়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যেকোনো একক দেশ বা অঞ্চলের ওপর পুরো শ্রম খাতকে নির্ভরশীল না রেখে শ্রমবাজারের দ্রুত বহুমুখীকরণ বা অলটারনেটিভ মার্কেট তৈরি করতে হবে। বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থাকে কনজারভেটিভ এবং নেতিবাচক পপুলিস্ট রাজনীতি এমন একটি চরম উত্তেজনাকর জায়গায় নিয়ে গেছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে একের পর এক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র যুদ্ধ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। তাই আমাদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারকে বহুমুখী করতে না পারলে সামনে বড় সংকট তৈরি হবে। এর প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে।’

সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরল হক ও মন্ত্রণালয়টির সচিব মো. মোখতার আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরও