চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

পুরনো আবাসনের সুরাহা না করেই নতুন ৩ প্রকল্পের উদ্যোগ

পুরনো ও অসমাপ্ত আবাসন প্রকল্পগুলোর জটিলতা সুরাহা না করেই নতুন তিন প্রকল্প হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত প্রায় ৬ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এ নতুন প্রকল্পগুলো গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জানা গেছে, সিডিএর একাধিক পুরনো প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ ও অর্থ আদায় সম্পন্ন হলেও এখনো অনেক গ্রাহক প্লট বুঝে পাননি। সড়ক, বিদ্যুৎ ও নাগরিক সুবিধার অভাবে আগের প্রকল্পগুলো বছরের পর বছর ঝুলে আছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ করার দাবি থাকলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

সিডিএর তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রস্তাবিত ১৪ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি নতুন আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ করছে, যার প্রস্তাবিত ব্যয় প্রায় ৬ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। যদিও নতুন প্রকল্পগুলো সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন, অর্থায়ন ও মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় আছে। এসব ধাপ শেষে পরিকল্পনা কমিশন হয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) থেকে অনুমোদন পেলে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পথে যাবে। এগুলো বাস্তবায়নের ধাপে এগোলেও আগের আবাসন প্রকল্প নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়নি সিডিএ।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে প্রস্তাবিত তিনটি আবাসিক প্রকল্পের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রায় ৪ হাজার ৫৩৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ডেভেলপমেন্ট অব ফতেয়াবাদ নিউ টাউন ইন চট্টগ্রাম’ শীর্ষক আবাসন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ পর্যন্ত। প্রকল্পে হাটহাজারী থানার ফতেয়াবাদে প্রায় ৩৫৪ একর জমিতে নতুন উপশহর গড়ে তোলার পাশাপাশি পাঁচ লাখ মানুষের আবাসনের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে।

প্রায় ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বায়েজিদ লিংক রোডসংলগ্ন ‘নিসর্গ আবাসিক এলাকার উন্নয়ন’ প্রকল্প নেয়া হয়েছে ১১৩ দশমিক ৮৯ একর জমিতে। প্রকল্পটিতে এখন সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষার কাজ চলছে। সমীক্ষা শেষে ডিপিপি প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরিকল্পনা আছে। এদিকে সর্বশেষ চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় ৩৪৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘বে-পার্ল হাউজিং প্রকল্পের উন্নয়ন (ফেজ-১)’ হাতে নিয়েছে সিডিএ। প্রকল্পটির মেয়াদ জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ পর্যন্ত এবং ১৯ দশমিক ৫৫ একর জমিতে এ আবাসন পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে ও ডিপিপি প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করবে সিডিএ নিজেই। তবে প্রকল্পটি লাভজনক কিনা তার পুনর্মূল্যায়ন হচ্ছে।

জানা গেছে, সিডিএ এ পর্যন্ত ১৬টি আবাসিক এলাকা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে বেশির ভাগ প্রকল্পই নানা নাগরিক সুবিধার অভাবে এখনো সফল হতে পারেনি। যেমন অনন্যা আবাসিক প্রকল্পের দুটি পর্ব বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। জঙ্গল সলিমপুর আবাসিক প্রকল্পটি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। বায়েজিদ হাউজিং নামের প্রকল্পটি শুধু উদ্যোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। কল্পলোক আবাসিক এলাকায় আবাসন নির্মাণ শুরু হলেও সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা এখনো আধুনিকায়ন হয়নি।

এদিকে ১৯৯২ সালে গৃহীত মইজ্জারটেক এলাকার কর্ণফুলী আবাসিক প্রকল্পটি দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে অবহেলিত ছিল। নাগরিক সুবিধার অভাবে সেখানে বসতি গড়ে ওঠেনি। তবে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সেখানে ওয়াসার পানির সংযোগ দেয়ার কাজ শুরু হয়। এ ইতিবাচক পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিনের অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখছে। প্লট মালিকরা এখন ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের কারণে সিডিএর নতুন তিনটি আবাসন প্রকল্পের কাজও বন্ধ হয়ে গেছে।

সার্বিক প্রসঙ্গে সিডিএর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে আবাসন প্রকল্প করার জন্য যে পরিমাণ জায়গা থাকার কথা সেটি আমাদের নেই। যার কারণে নিম্ন আয়, মধ্যম আয় ও উচ্চ আয়ের জন্য তিন রকম আবাসন পরিকল্পনা করা হয়েছে। জায়গা বরাদ্দ নয়, বরং ফ্ল্যাট করে বিক্রির জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে বেশি সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আবাসন সংকটের সমাধান হবে।’

পুরনো প্রকল্পগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগে যেসব আবাসন প্রকল্প নেয়া হয়েছে কিন্তু কাজ করা যায়নি, সেগুলোর বিষয়ে কাজ করা হবে। যারা সিডিএর প্লট নিয়ে ভুক্তভোগী তাদের সঙ্গে আমরা বসব। সমস্যা সমাধানে কাজ করব।’

আরও