জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে পালন করব। যদি সরকার বাধা দেয়ার চেষ্টা করে তাহলে এ লংমার্চের ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে। আজ শনিবার সকালে শাপলা চত্বর থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হওয়ার আগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আজ এই সকাল বেলা আমরা উপস্থিত হয়েছি ১১ দলীয় ঐক্যের ঐতিহাসিক লংমার্চ, এই ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। আমরা ঢাকাবাসী থেকে বিদায় নিতে এসেছি। এই ঐতিহাসিক লংমার্চের জন্য আপনারা আমাদের জন্য দোয়া রাখবেন। আজকে যত বাধা বিপত্তি আসুক না কেন আমাদের এই লংমার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই পৌঁছাবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বাংলাদেশের মানুষ লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে সবাই ঢাকায় একত্রিত হয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। এবার আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বিভাগের উদ্দেশে লংমার্চের যাত্রা শুরু করেছি। নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে যাচ্ছে, সেই স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য।
তিনি আরো বলেন, আমাদের এই লংমার্চ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে লংমার্চ। এই লংমার্চ যারা তেল গ্যাস বিদ্যুতের সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে তাদের বিরুদ্ধে লংমার্চ। এই লংমার্চ যারা ৭০ শতাংশ জনগণের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে তাদের বিরুদ্ধে লংমার্চ।
জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আপনারা দলে দলে এই লংমার্চ অংশগ্রহণ করুন। এই লংমার্চ কোনো ১১ দলের নয়। এই লংমার্চ বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে পালন করব। যদি সরকার বাধা দেয়ার চেষ্টা করে, এই লংমার্চের ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছে ১১ দলীয় ঐক্য।
চট্টগ্রামের পথে এ লং মার্চের রুটের বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা হবে। প্রথমটি নারায়ণঞ্জের কাচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্টান্ডে, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল, মীরের সরাই এবং সবশেষ চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।